চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই। ১১-১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
সফরকালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ঢাকা ও কক্সবাজারে কানাডার সহায়তায় পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ পরিদর্শন করবেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ ঢাকার কানাডীয় হাই কমিশন জানিয়েছে, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী ও তরুণদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে দেশটির আন্তর্জাতিক সহায়তার ভূমিকা তুলে ধরা হবে। এসব উদ্যোগ টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করছে।
দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে কানাডা। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৪০০ কোটি কানাডীয় ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
কানাডার মতে, বাংলাদেশে সুশাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কার অব্যাহত থাকলে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের জন্য পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের এ সময়ে কানাডার অংশীদারত্ব স্বাস্থ্য, শিক্ষা, লৈঙ্গিক সমতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করছে।
সফরের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় কাজ করা বিভিন্ন অংশীজনের কাছ থেকে তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হবেন।
২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় অন্যতম প্রধান দাতা হিসেবে ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে কানাডা। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য উল্লেখযোগ্য সহায়তা রয়েছে।
কানাডা জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অভিন্ন সমৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে দেশটি।










