রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানিস্বল্পতার কারণে আবার মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত তিন মাস মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দফায় ১০ আগস্ট পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এবার দ্বিতীয় দফায় ১১-২০ আগস্ট পর্যন্ত আরো ১০ দিন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গতকাল সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) রাঙ্গামাটি উপকেন্দ্র প্রধান আজহার আলী, রাঙ্গামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্র বলছে, কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের বংশবিস্তার ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণে প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস সব ধরনের মাছ শিকার, বাজারজাত এবং পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জেলা প্রশাসন। গত বছরও একইভাবে নিষেধাজ্ঞার সময় তিন মাস দেয়া হয়। ওই সময় হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না বাড়ায় ১-১০ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বাড়ায় জেলা প্রশাসন। ১১ আগস্ট শুরু হয় মাছ ধরা। তবে সেই সময় পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মৌসুমের শুরুর দিকে মাত্রাতিরিক্ত মাছ ধরা হয়। ফলে মৌসুমের শেষ দিকে হ্রদে তেমন মাছ পাওয়া যায়নি। এতে বিএফডিসির মাছ অবতরণের কয়েক বছরের রেকর্ড পতন হয়েছে। এজন্য এবার নিষেধাজ্ঞার সময়ে পানি না বাড়ায় মোট ২০ দিন এ মেয়াদ বাড়ানো হলো।

বিএফডিসি রাঙ্গামাটি বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০০ এমএসএলের ওপরে থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে আছে ৮৮ এমএসএল। তাই এখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে হ্রদের সব পোনা ও ছোট মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়বে। এতে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। ধস নামতে পারে হ্রদের মাছ আহরণে। যার কারণে আপাতত ২০ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ল। তবে সেটা নির্ভর করছে পানি বাড়ার ওপর। যদি পানি ১০০ এমএসএল ওপরে হয়, তাহলে ২০ আগস্ট মধ্যরাতের পর মাছ ধরা শুরু হবে। যদি তা না হয়, তবে আমরা তৃতীয় দফায় আরো ১০ দিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করব।