দীর্ঘ ২৮ দিন পর নিজ কার্যালয়ে অফিস করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ। গতকাল সকালে নির্ধারিত সময়ে উপাচার্য কার্যালয়ে আসেন। দুপুর পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে ছিলেন। অন্যদিকে আজ থেকে শাবিপ্রবির হল খুলে দেয়া হচ্ছে। আগামীকাল অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। সরকারি কোনো নির্দেশনা না এলে ২২ ফেব্রুয়ারি সশরীরে ক্লাস শুরু হবে। রোববার সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন। সিন্ডিকেট সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

রেজিস্ট্রার জানান, গতকাল সকালেই উপাচার্য তার কার্যালয়ে আসেন এবং নির্ধারিত কাজ করেন। এছাড়া সন্ধ্যায় উপাচার্যের উপস্থিতিতে একটি সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি শাবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৯১ সালের এই দিন ক্লাস শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। প্রতি বছরই দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। গত শুক্রবার শিক্ষকদের সঙ্গে মিটিংয়ের সময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগের মতো জৌলুশ নিয়ে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া উপাচার্যের অপসারণ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।

রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অন্য বছরের মতোই সব ধরনের কার্যক্রম থাকবে। এর মধ্যে পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটার মতো বিষয়গুলো থাকবে।

গত ১৬ জানুয়ারি হল প্রভোস্ট পদত্যাগ আন্দোলন চলাকালে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।  এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলন শুরু করেন।

দীর্ঘ ২৭ দিন আন্দোলন চলার পর শিক্ষার্থীরা শনিবার রাতে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রীর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের পদত্যাগ বিষয়ে তারা আচার্যের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবেন বলে জানান আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ।