যশোরের অভয়নগরে ৭০০ টন কয়লাবোঝাই ‘এমবি প্রবাহ এন্টারপ্রাইজ-২’ নামের একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো শুরু হয়নি উদ্ধারকাজ। ফলে অন্যান্য জাহাজ চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দূষিত হচ্ছে ভৈরব নদের পানি। হুমকিতে পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্য।

নওয়াপাড়া নৌবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে উপজেলার রাজঘাট এলাকায় সাহারা গ্রুপের ‘এমবি প্রবাহ এন্টারপ্রাইজ-২’ কয়লাবোঝাই জাহাজ ডুবে যায়। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধারকাজ শুরু না হওয়ায় নদীপথে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ছোট-বড় মালবাহী জাহাজ চলাচল। ডুবে যাওয়া জাহাজের আশপাশে কয়লার বিষাক্ত রাসায়নিক কেমিক্যাল নদীতে ভাসছে। পানি কালো আকার ধারণ করেছে, যা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ভৈরব নদে নোঙর করা আল-আকসা জাহাজের মাস্টার মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে মোংলা বন্দর থেকে গম নিয়ে নওয়াপাড়ার উদ্দেশে যাত্রা করি। ভোর ৬টার সময় নওয়াপাড়ার রাজঘাটে এসে ডুবে যাওয়া জাহাজের কারণে প্রায় ৪ ঘণ্টা আটকে আছি।

ডুবে যাওয়া ‘এমবি প্রবাহ এন্টারপ্রাইজ-২’ জাহাজের লস্কর বজলুর রহমান জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ এলে উদ্ধারকাজ শুরু হবে, যা শুরু রোববার (গতকাল) সন্ধ্যায় হতে পারে।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ জানান, রোববার (গতকাল) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদের পানি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নওয়াপাড়া নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, আমি দুবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা সাহারা গ্রুপের কয়লা গত মঙ্গলবার মোংলা বন্দরের হাড়বাড়িয়া থেকে ‘এমবি প্রবাহ এন্টারপ্রাইজ-২’ জাহাজে লোড দেয়া হয়। ৭৬৫ টন কয়লা নিয়ে ওইদিন অভয়নগরের নওয়াপাড়া নদীবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। গত বুধবার রাতে কয়লাবোঝাই জাহাজটি নওয়াপাড়ার রাজঘাট এলাকায় সাহারা গ্রুপের নিজ ঘাটে নোঙর করে। শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টার সময় জাহাজ থেকে কয়লা আনলোডের কাজ শুরু হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা পর জাহাজের তলদেশ দিয়ে হ্যাজে পানি ঢুকতে শুরু করে। এরপর মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যে জাহাজটি ভৈরব নদে ডুবে যায়।