রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি হওয়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমানে জল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চার ইউনিট সচল রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় প্রতি বছরই রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত এ পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যায়। এ বছরও একই কারণে হ্রদে পানিস্বল্পতা দেখা দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যায়। বর্তমানে কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বেড়েছে। ফলে পুরনো উৎপাদনে ফিরেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেলের ওপরই নির্ভর করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা। পাঁচ ইউনিটবিশিষ্ট জল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ২৩০ মেগাওয়াট। গত সপ্তাহেও কেন্দ্রের দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো ১০০ মেগাওয়াটের নিচে। গত কয়েকদিনে চারটি ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে ১২২-১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে ২ নং ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এখনো বন্ধ রয়েছে। অবশিষ্ট চারটি ইউনিট সচল আছে। এর মধ্যে ১ নং ইউনিটে দৈনিক ২৯-৩৫ মেগাওয়াট, ৩ নং ইউনিটে ৩০-৩৫ মেগাওয়াট, ৪ নং ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট ও ৫ নং ইউনিটে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১২২- ১২৫ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল (মিন সি লেভেল)। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির পরিমাণ ছিল ৮৪ দশমিক ৫৩ এমএসএল। স্বাভাবিক সময় হিসেবে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ থাকার কথা ৮৭ দশমিক ৮৪ এমএসএল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এটিএম আবদুজ্জাহের বণিক বার্তাকে জানান, বর্তমানে জল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নং ইউনিটটি ছাড়া অন্য চারটি ইউনিট সচল আছে। প্রতিদিন ১২২-১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে চার ইউনিটে। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ এমএসএল কম আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা থাকলে হ্রদের পানির পরিমাণও কমতে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ২ নং ইউনিটটি দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক জটিলতার কারণে বন্ধ রয়েছে। আমরা সেটিও সারানোর কাজ করছি; এ ইউনিটটি সচল হলে আমরা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরতে পারব।
প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর জাতীয় গ্রিডে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ছিল। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতায় উন্নীত করা হয়।










