ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সম্প্রতি ছয়দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। উপাচার্য মন্তব্য করেন যে, এই সফরের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান গত ২২ জুলাই এহিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে জাপান গমণ করেন। সফরকালে উপাচার্য এহিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. নিশিনা হিরোসিগে এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অংশ হিসেবে উভয় বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যমান শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এই অংশীদারত্ব আরো গভীর করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ‘ইমপ্লিমেন্টিং ওয়াটার কোয়ালিটি মনিটরিং অ্যান্ড পিউরিফিকেশন টেকনোলজিস টু কন্ট্রোল হেলথ রিস্কস ফর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ইন দ্য ঢাকা মেট্রোপলিটন এরিয়া’ শীর্ষক একটি যৌথ গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কলাবরেটিভ রিসার্চ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিআরএ)- এ স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পটি জাইকা এবং জাপান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি (জেএসটি)- এর অর্থায়নে পরিচালিত হবে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এই প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশে প্রধান গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। সফরকালে উপাচার্য এহিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ল্যাবরেটরি ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন, যেখানে তার সঙ্গে অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে বক্তৃতা প্রদান করেন। সেমিনারের শিরোনাম ছিল: ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রত্যাবাসনের পথ এবং জীবিকা নির্বাহের চ্যালেঞ্জ’। তিনি ফাউন্ডেশনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়াও, উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিস (আইজিইএস) এর রিসার্চ পরিচালকের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে জলবায়ু নীতিনির্ধারণ ও নীতি-ভিত্তিক যৌথ গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।