বেঙ্গালুরুতে গতকাল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল শ্রীলংকা। অন্যদিকে, এ হারে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালের সম্ভাবনা শেষের পথে। পাঁচ ম্যাচের চারটিতে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ধূসর হলো জস বাটলারের দলের। এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ঠিক ১০০ বল বাকি থাকতে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা। এ রান দিয়ে আটকানো যায়নি শ্রীলংকাকে। কুশল মেন্ডিসের দল ১৪৬ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয়। 

১৫৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ডেভিড উইলির আঘাতে ২৩ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলংকা। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার কুশল পেরেরা ও কুশল মেন্ডিস ফিরে যান সাজঘরে। তখন কি জস বাটলাররা অভাবনীয় এক জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন? 

কিন্তু এরপর তাদের আর কোনো সুযোগই দিলেন না পাথুম নিশাঙ্কা ও সাদিরা সামারাবিক্রমা। ১২২ বলে ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এ দুজন। নিশাঙ্কা ৮৩ বলে সাত বাউন্ডারি ও দুই ছক্কায় ৭৭ এবং সামারাবিক্রমা ৫৪ বলে সাত বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৬৫ রান করে ২৫.৪ ওভারে শ্রীলংকার জয় নিশ্চিত করেন। ৭ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তিন উইকেট শিকার করা পেস বোলার লাহিরু কুমারা হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নেয়া ইংল্যান্ডকে ভালো সূচনা এনে দেন জনি বেয়ারস্টো ও ডেভিড মালান। ৪৫ রানে মালানকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। বিপর্যয়ের সেই শুরু। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে ইংলিশরা। একটি পর্যায়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৮৫/৫। সেখান থেকে বেন স্টোকস ও মঈন আলীর ৩৭ রানের জুটি দলের সংগ্রহ একশ পার করে। যদিও পরপর দুই ওভারে মঈন ও ক্রিস ওকসের পতন ঘটলে গভীর সংকটে পড়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এরপর স্টোকস কিছুক্ষণ লড়লেও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। 

লাহিরু কুমারা (৩/৩৫), ম্যাথুজ (২/১৪) ও কাসুন রাজিথার (২/৩৬) পেস আর মহিশ থিকসানার (১/২১) ঘূর্ণিতে বেসামাল ইংলিশরা ৩৩.২ ওভারে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায়। চলতি আসরে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ২০০-এর নিচে অলআউট হলো ইংলিশরা। ইংলিশ বিপর্যয়ের দিন স্টোকসের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৪৩ রান। ৭৩ বলের মোকাবেলায় ৬ বাউন্ডারির সাহায্যে এ রান করেন তিনি। এছাড়া বেয়ারস্টো ৩০ ও মালান ২৮ রান করেন। 

বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও ইংলিশদের ওপর কর্তৃত্ব করল সিংহলিজরা। এ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে ৮ থেকে ৫ নম্বরে উঠে গেল তারা। ৫ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৯ নম্বরে নেমে গেল ইংলিশরা। বাংলাদেশ ২ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে। 

প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড বলেই কি এতটা দুর্বার শ্রীলংকা? গত শনিবার লক্ষ্ণৌতে ডাচদের হারিয়ে তারা লড়াইয়ের রসদ পায়। উজ্জীবিত লংকানরা গতকাল রীতিমতো বিধ্বস্ত করল চ্যাম্পিয়নদের। তাতে বিশ্বকাপ দ্বৈরথে কর্তৃত্বও বহাল থাকল। বিশ্বকাপে ২০০৭ থেকে টানা পাঁচ আসরেই ইংল্যান্ডকে হারানোর কৃতিত্ব দেখাল শ্রীলংকা। এছাড়া বিশ্বকাপে মোট ১২ বারের মুখোমুখিতে ৬-৬ সমতাও আনল তারা। ওয়ানডেতে ৭৯ ম্যাচের মুখোমুখিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবধানও কমেছে। ইংল্যান্ডের জয় ৩৮টি, শ্রীলংকার ৩৭টি। তিন ম্যাচ ছিল ফলহীন, একটি টাই হয়। 

জিততে মরিয়া ইংলিশরা গতকাল একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনে। হ্যারি ব্রুক, গাস অ্যাটকিনস ও রিস টপলির জায়গা নেন লিয়াম লিভিংস্টোন, মঈন আলী ও ক্রিস ওকস। পরিবর্তনে অবশ্য কোনো লাভই হলো না। এ ম্যাচেও বিবর্ণ চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, চোটাক্রান্ত শ্রীলংকার একাদশে ফেরেন ম্যাথুজ। সাবেক অধিনায়ক দলের জন্য আশীর্বাদ হয়েই এলেন। মালানের পর মঈন আলীর উইকেট নেন তিনি। ইংল্যান্ডের একটি রানআউটেও অবদান রাখেন ম্যাথুজ। 

এ জয়ে সেমিফাইনালের আশা জেগেছে শ্রীলংকার। দলনায়ক কুশল মেন্ডিস তা স্বীকার করে ম্যাচ শেষে বলেন, ‘নিট রানরেট বৃদ্ধি আমাদের জন্য দারুণ ব্যাপার। আজ প্রত্যেকেই ভালো করেছে। ফিল্ডিংও ভালো হয়েছে। পরের কয়েকটি ম্যাচেও আমাদের এভাবে খেলে যেতে হবে। আমাদের সামনে আরো চারটি ম্যাচ। আমি মনে করি, আমরা যদি এভাবে দলগত নৈপুণ্য দেখাতে পারি, তবে সেমিফাইনালের সুযোগ আছে।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড: ৩৩.২ ওভারে ১৫৬/১০ (স্টোকস ৪৩, বেয়ারস্টো ৩০, মালান ২৮; লাহিরু ৩/৩৫, ম্যাথুজ ২/১৪, রাজিথা ২/৩৬)। শ্রীলংকা: ২৫.৪ ওভাবে ১৬০/২ (পাথুম ৭৭*, সামারাবিক্রমা ৬৫*; ডেভিড উইলি ২/৩০)। ফল: শ্রীলংকা ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: লাহিরু কুমারা (শ্রীলংকা)।