দীর্ঘ ৩৬ দিন ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ থাকার পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে রুটিন অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস নেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশ নিতে দেখা গেছে।

গত ১৬ জানুয়ারি প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পর রাতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা ও আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে আবাসিক হল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভ, মিছিল, অনশন, মোমবাতি প্রজ্বলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তারা এবং ১৩ ফেব্রয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার বিষয়ে সিন্ডিকেট সভা করে কর্তৃপক্ষ। সিন্ডিকেটে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইনে ক্লাস এবং ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন স্বাতী বলেন, আগের রুটিন অনুযায়ী বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন জানান, এখন থেকে ক্লাস পরীক্ষা নিয়মিতভাবে চলবে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন শিক্ষকরা।

শাবিপ্রবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা এবার যখন একুশের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবছে, তারা বহন করে চলেছে ১৬ জানুয়ারি'র নৃশংস পুলিশি হামলার ক্ষতচিহ্ন। উপাচার্যের নির্দেশে সংগঠিত নারকীয় হামলার ঘটনায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ-সংগ্রামের অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীবৃন্দ। 

এবারের একুশে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা আয়োজন করে  'বহে রক্ত-বহ্নিশিখা'য়। এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা কক্ষে শাবিপ্রবির শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের  জন্য ঢাকাস্থ  অতিথি ভবনের জন্য বুকিং অ্যাপের শুভ উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য ঢাকাস্থ অতিথি ভবন ইতোমধ্যে উদ্বোধন করেছে। সকলের সহজ উপায়ে রুম বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপসের মাধ্যমে রুম বরাদ্দ সুবিধা প্রদানের অ্যাপটি শুভ উদ্বোধন করা হলো।