বাংলাদেশকে মাটিতে নামাল ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। তাও ৯২ বল হাতে রেখে। এক ম্যাচ পরই মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখল সাকিবের দল। ধর্মশালায় গতকাল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ৩৬৫ রান তাড়া করতে নেমে ২২৭ রানে গুটিয়ে যায় চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। এ পরাজয়টা বিশ্বকাপে রানের হিসাবে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২০৬ রানের হারটিই বৈশ্বিক আসরে সবচেয়ে বড়। এছাড়া ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে তারা হেরেছে ১৯৮ রানে।
ইংলিশদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত জস বাটলারের দল গতকাল উপহার দিল নিখুঁত পারফরম্যান্স। জেসন রয়ের পরিবর্তে বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়া ডেভিড মালান ১০৭ বলে ১৪০ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাবেক অধিনায়ক জো রুট (৬৮ বলে ৮২) ও জনি বেয়ারস্টো (৫৯ বলে ৫২)।
এরপর পেসম্যান রিস টপলি ১০ ওভারের মধ্যেই বাংলাদেশের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়ে লড়াইয়ের শক্তিটুকু শেষ করে দেন। পরপর দুই বলে তিনি বিদায় করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। এরপর মোহনীয় এক বলে বোল্ড করেন সাকিব আল হাসানকে। মেহেদী হাসান মিরাজ ষষ্ঠ ওভারে ক্রিস ওকসের শিকারে পরিণত হলে ম্যাচটি যেন সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
৪৯ রানে ৪ উইকেট নেই। এরপর লিটন দাস (৭৬), মুশফিকুর রহিম (৫১) ও তাওহিদ হৃদয় (৩৯) টানেন দলকে। যদিও তা দলকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। খণ্ড খণ্ড কিছু লড়াই শেষে ৪৮.২ ওভারে ২২৭ রানে সবক’টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এমন লজ্জার হারের পর কী ভাবছেন সাকিব? ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা শুরুটা ভালো করিনি, বিশেষ করে প্রথম ১০ ওভার। যখন আপনি কাউকে সুযোগ দেবেন তখন তারা শক্তভাবে আসবে। আমরাও কিন্তু দারুণভাবে ফিরেছিলাম, যদিও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।’ নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে চার উইকেট হারালে আপনি ৩৫০ ছুঁতে পারবেন না। আমাদের ভালো পরিকল্পনা ছিল, যদিও সেটি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তবে টুর্নামেন্টটি দীর্ঘ। এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে, সামনে কিছু কঠিন ম্যাচ আছে। আমরা ভেঙে পড়তে পারি না। ভেঙে না পড়ে এসব ম্যাচ থেকে যা কিছু ইতিবাচক পেয়েছি, তাই নিয়ে এগোতে হবে।’
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা স্বরূপে ফেরায় আনন্দিত দলনায়ক জস বাটলার। জয় শেষে অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট পতন ঘটানো অসাধারণ ছিল। সত্যিই খুব ভালো পারফরম্যান্স। তবে ইনিংসের শেষ দিকে আরো ভালো করতে পারতাম আমরা। এ জায়গায় উন্নতি করতে হবে।’
অলরাউন্ডার মঈন আলীর পরিবর্তে দলে আসা দীর্ঘদেহী পেসার রিস টপলি (৪/৪৩) বড় ক্ষতিটা করেন বাংলাদেশের। তিনি দ্বিতীয় ওভারে পরপর দুই দলে তানজিদ ও শান্তকে ফিরিয়ে জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। নতুন ব্যাটসম্যান সাকিব তাকে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত করেন। যদিও বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকা হয়নি সাকিবের। ৯ বলে ১ রান করে এই টপলির বলে বোল্ড বাংলাদেশ দলনায়ক। পরে লড়তে থাকা মুশফিকের উইকেটও নেন টপলি।
আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় মেহেদী হাসান মিরাজ (৮) গতকাল নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তিনি ক্রিস ওকসের শিকার হন। এরপর লিটন ও মুশফিক ৭৫ বলে ৭২ রানের জুটিতে দলকে টানেন। দলীয় ১২১ রানে লিটনকে আউট করে এ জুটি ভাঙেন ওকস। আউট হওয়ার আগে ৭ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৬৬ বলে ৭৬ রান করেন লিটন।
এরপর মুশফিক ও তাওহিদ হৃদয়ের ৪৩, তাওহিদ ও মেহেদী হাসানের ২৫ এবং তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের ২৬ রানের তিনটি জুটি দলের হারের ব্যবধানই যা একটু কমিয়েছে।
এর আগে টস জিতে বোলিং নেয়া বাংলাদেশের বোলারদের পিষ্ট করে ৪০ ওভারেই ইংলিশরা তুলে নেয় ৩ উইকেটে ২৯৮ রান। তখন চারশর হাতছানি ছিল ইংলিশদের সামনে। যদিও শরিফুল ও মেহেদী হাসানের পেস ও স্পিনের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ইংলিশরা শেষ ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান তুলতে পেরেছে।
ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে ভালো সূচনা এনে দেন বেয়ারস্টো ও মালান। দুজনের ১১৫ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। ৫৯ বলে ৫২ রান করে বোল্ড হন বেয়ারস্টো। এর পরও রানের গতি কমেনি ইংলিশদের। বরং ভালো সূচনার ওপর দাঁড়িয়ে সংগ্রহটা বড় করেন মালান ও রুট।
মালান মাত্র ৯১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে এগোচ্ছিলেন ডাবলের দিকে। যদিও শেখ মেহেদী ৩৮তম ওভারে তাকে বোল্ড করেন। রুটকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ১১৭ বলে ১৫১ রানের জুটিতে দলের রান আড়াইশ পার করেন মালান। অধিনায়ক জস বাটলার ১০ বলে ২০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শরিফুল ইসলামের শিকার হন। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে ইংলিশরা। মেহেদী হাসান ৭১ রানে চারটি ও শরিফুল ৭৫ রানে তিনটি উইকেট নেন। সাকিব ও তাসকিন আহমেদের শিকার একটি করে উইকেট।
এ জয়ে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। এ ম্যাচের আগে ছিল ২-২। এখন ইংলিশরা লিড নিল ৩-২-এ।
এদিকে, গতকালের বিশাল জয়ে পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশকে ছয়ে ঠেলে দিয়ে পাঁচে উঠে গেছে ইংল্যান্ড। নিট রানরেটেও তারা অনেক উন্নতি করেছে। ইংলিশদের যেখানে +০.৫৫৩, সেখানে বাংলাদেশের (-)০.৬৫৩।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৬৪/৯ (মালান ১৪০, রুট ৮২, বেয়ারস্টো ৫২; মেহেদী ৪/৭১, শরিফুল ৩/৭৫)। বাংলাদেশ: ৪৮.২ ওভারে ২২৭ (লিটন ৭৬, মুশফিক ৫১, তাওহিদ ৩৯; টপলি ৪/৪৩, ওকস ২/৪৯)। ফল: ইংল্যান্ড ১৩৭ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: ডেভিড মালান (ইংল্যান্ড)।










