তরুণদের আরো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, সাহসী ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে দৃঢ় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম, তাদের হাতে রয়েছে ভবিষ্যৎ গঠনের শক্তি।

রোববার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় সুইডেন ও নরওয়ের তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অনেকে বলেন তরুণরা ভবিষ্যৎ, কিন্তু আমি বলি—তরুণরাই বর্তমান। বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে, আর আজকের তরুণরা আগের প্রজন্মের মতো নয়। প্রযুক্তি ও আধুনিক চিন্তায় তারা হয়ে উঠেছে এক নতুন ধরনের মানুষ, প্রায় অতিমানবের মতো। এখন শুধু নিজেকে জিজ্ঞেস করো—আমি কেমন বিশ্ব তৈরি করতে চাই? তারপর সেই পথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হও, কারণ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সব উপকরণ তোমাদের হাতেই আছে।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স ও নরওয়ের হকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন-এর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন দুই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরুণ নেতারা। সঙ্গে ছিলেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপির)-এর বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, নর্ডিক প্রতিনিধি কার্যালয়ের উপপরিচালক ক্যারোলিন আবের্গ, কৌশলগত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ কীর্তিজয় পাহাড়ি ও যোগাযোগ বিশ্লেষক এমিলি আন্দ্রেসেন।

বৈঠকে তরুণ রাজনীতিকরা অধ্যাপক ইউনূসের কাছে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন, যুব অংশগ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে প্রশ্ন করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত—তরুণরা তখন এক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। জুলাই বিপ্লবীরা সাংবিধানিক সংস্কার দাবি করেছিল, কারণ তারা মনে করত সংবিধানের কিছু ধারা ফ্যাসিবাদের মূল উৎস। আমরা তাই একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করেছি। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের জন্য কনসেনসাস কমিশন গঠন করা হয়, যেখানে ৩০টিরও বেশি দল মাসের পর মাস বিতর্কে অংশ নেয়। অবশেষে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছে, এবং এই মাসেই আমরা জুলাই চার্টারে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হবে।

অধ্যাপক ইউনূস তরুণ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি রাস্তাই একেকটি গল্প বলে। দেয়ালের গ্রাফিতি, পোস্টার, লেখাগুলো—সবই তরুণদের প্রতিরোধ ও স্বপ্নের জীবন্ত জাদুঘর।

বৈঠকে তিনি নিজের থ্রি জিরো ধারণা নিয়েও আলোচনা করেন, যা শূন্য কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ বৈষম্য ও শূন্য বেকারত্ব—এই তিন ভিত্তির ওপর একটি নতুন সভ্যতা গড়ার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি তিনি সামাজিক ব্যবসা ধারণার কথাও তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য মুনাফার চেয়ে সামাজিক সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়া।