নতুন করে আন্দোলন দানা বাঁধছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। চলমান আন্দোলন আবারো কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের  অনশন ভাঙার ১৫ দিন অতিবাহিত হয়েছে। উপাচার্য এখনো স্বপদেই বহাল। এ ক’দিন প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্য দিয়ে আন্দোলন চললেও গতকাল বিকালে আবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে করেছে মোমবাতি প্রজ্বালন। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনকারীরা পুনরায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন।  

সরকারের উচ্চমহলের আশ্বাসের কথা বলে গত ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, প্রখ্যাত লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। এ আশ্বাসের ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উপাচার্য আছেন বহাল তবিয়তে। কার্যালয়ে না গিয়ে বাসা থেকেই উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। চলছে ভর্তি কার্যক্রমও। ক্লাস ছাড়া সব কার্যক্রমই স্বাভাবিক হয়েছে।

এদিকে আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, প্রতিশ্রুতি পেয়ে অনশন ভাঙার ১৫ দিন পার হয়েছে, এখনো সব দাবি মেনে নেয়ার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের ওপর করা দুটি বানোয়াট মামলা, ব্যক্তিগত নম্বর, বিকাশ, নগদ অ্যাকাউন্টসহ অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়ার পর দু-একটি বাদে সেসবের প্রায় সবই এখনো বন্ধ আছে। তিনি বলেন,  লাঠি, বুলেট, বোমার সব আঘাত, জখম, ঝরা রক্ত আমাদের মনে অক্ষয় শক্তির জোগান দিয়ে অঙ্গার হয়ে জ্বলছে। উপাচার্যের পতন না হলে এ অঙ্গার দাবানলে পরিণত হবে।

এদিকে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী সজল কুণ্ডুর শরীর থেকে গতকাল অস্ত্রোপচার করে স্প্লিন্টার বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার ডান হাতে রয়েছে অর্ধশতাধিক স্প্লিন্টার। তিন-চারটি স্প্লিন্টার বের করতে পারলেও বাকিগুলোর ব্যাপারে চিকিৎসকরা ঝুঁকি নেননি। সজল কুণ্ডুকে হয়তো বাকি জীবন বয়ে বেড়াতে হবে এ স্প্লিন্টারের ক্ষত।

১৩ জানুয়ারি শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত। ওইদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী। এ দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারীরা। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এরপর রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে উপাচার্যকে মুক্ত করে বাসায় নিয়ে যায় পুলিশ। ওইদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেন উপাচার্য। এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওই রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান।

পরদিন থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে টানা অবস্থান নেন তারা। সেখানে অনশনও শুরু করেন ২৯ শিক্ষার্থী। টানা কয়েকশ ঘণ্টা অনশন পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ২০ জানুয়ারি উপাচার্য ভবনের ফটকে ব্যারিকেড দিয়ে বাইরের প্রবেশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। গত ২৬ জানুয়ারি সকালে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে উপাচার্য ভবনের ফটকের ব্যারিকেড তুলে নেন। তবে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিশ্বদ্যালয়ের বিষয়গুলো এখন আমাদের হাতে নেই। এগুলো সরকারের হাতে চলে গেছে। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলেই একটি সিদ্ধান্তে আসবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকে বন্ধ করা হয়েছে। এখন ক্লাস শুরুর বিষয়ে উপাচার্যই বলতে পারবেন। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় একটা ক্রাইসিস মুহূর্ত দিয়ে যাচ্ছে, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।