যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ। দুই লেগের খেলায় মালদ্বীপকে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় হারানোর কৃতিত্ব দেখায় হাভিয়ের কাবরেরার দল। মালেতে প্রথম লেগের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর গতকাল ঢাকার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। 

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ১০ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেনের গোলে ১১ মিনিটের সময় লিড নেয় বাংলাদেশ। ভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশ মালদ্বীপ প্রথমার্ধেই গোল পরিশোধ করে দেয়। ৩৬ মিনিটে সমতা আনেন ইব্রাহিম আইসাম। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৪৬ মিনিট) ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের গোলে আবার এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। 

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে সোহেল রানা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ফলে বাকি সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়। এর পরও জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিকরা। যোগ করা সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে যখন লড়াই তুঙ্গে তখন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মালদ্বীপের আহনাফ রশীদ।

এর আগে ১২ অক্টোবর মালেতে প্রথম লেগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ৮৬ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান সাদউদ্দিন। ওই গোলটি বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখে।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আনন্দে বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা বলেন, ‘এমন লড়াই প্রত্যাশিত ছিল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। শক্তিশালী একটা দলের বিপক্ষে খুবই আঁটসাঁট একটা ম্যাচ হলো। মানসম্পন্ন ফুটবল খেললাম আমরা, বিশেষ করে মাঝমাঠে ও আক্রমণভাগে। আমাদের শুরুটাও ভালো ছিল। কিন্তু মালদ্বীপের সামর্থ্য আছে, ভুল করলে তারা আপনাকে শাস্তি দেবে। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের আত্মবিশ্বাসী থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছেলেরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়াকু ফুটবল খেলেছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ইতিবাচক ফল এসেছে। এখন আমাদের সামনে গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছেলেরা চাপ ভালোভাবে সামলেছে। সম্ভবত মালদ্বীপ থেকে ড্র করে ফেরার পর আমরা এটা ম্যানেজ করতে শিখেছি। হোম গ্রাউন্ডে খেলা বাড়তি সুবিধা, সবাই আমাদের সমর্থন করছে। ফলে জানতাম কিংস অ্যারেনা দর্শকে ঠাসা থাকবে এবং সবাই আত্মবিশ্বাসী ছিল। সাফ থেকে ফেরার পর এটা ভীষণ হাই ইন্টেনসিটির ম্যাচ ছিল। ছেলেরা অবশ্যই ভালোভাবে সব চাপ সামলেছে।’

অর্জনের আনন্দে এ কোচ বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে, মুক্তির স্বাদও আছে। আমরা জানতাম ম্যাচটি আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনে অনেক পরিশ্রম আছে এবং যদি আজ আমরা জিততে না পারতাম, তাহলে সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় সমস্যা হতো। শেষ ছয়-সাতটা মাসে আমরা উন্নতি করেছি। কিন্তু আজ না জিতলে বাছাইয়ের পরের ধাপের ম্যাচগুলো খেলার সুযোগ মিস করতাম, এশিয়ান কাপ মিস করতাম, তাহলে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ত। তাই অবশ্যই রিলিফ অনুভব করছি।’

বাংলাদেশের প্রথম গোলদাতা রাকিব জয় শেষে বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা ছিল আমাদের। পরিশ্রম করলে মানুষ তার ফল পাবেই। কারণ আমরা অনেক দিন ধরে একত্রে পরিশ্রম করেছি। আমরা একটা দল হিসেবে খেলেছি। মাঠে যে ১১ জন ছিলাম, সবাই একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি। মাঠের বাইরে যারা ছিল, তারাও আমাদের সমর্থন দিয়েছে। মালদ্বীপে ড্র করে আসার ফলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল। এ ম্যাচেও আমরা ভালো খেলেছি।’

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম রাউন্ডের বৈতরণী পার হয়েছে পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, চাইনিজ তাইপে, মিয়ানমার, হংকং, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়া। 

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে ‘আই’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে বাংলাদেশকে খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনের মতো তিন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। তিনটি দলই ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশ যেখানে ১৮৯ নম্বরে, সেখানে অস্ট্রেলিয়া ২৭, ফিলিস্তিন ৯৭ ও লেবানন ১০১ নম্বরের দল। লাল-সবুজদের সামনে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবু দ্বিতীয় রাউন্ডে ছয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগই বাংলাদেশের জন্য কম কীসে? 

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলবে মোট ৪৮টি দল। এশিয়া মহাদেশ (এএফসি) থেকে সরাসরি আটটি ও আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলে আরো একটি দলের বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। 

বাছাই পর্বের প্রথম রাউন্ডে ২০টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দুই লেগের এ লড়াই শেষে ১০টি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে মোট ৩৬টি দল নয়টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে এবং প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল (মোট ১৮টি) উঠবে তৃতীয় রাউন্ডে। সেখানে তিনটি গ্রুপে খেলবে ছয়টি করে দল। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে এবং এর পরের দুটি করে দল চতুর্থ রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। চতুর্থ রাউন্ড থেকে দুটি দল পাবে বিশ্বকাপের টিকিট আর প্লে-অফের জন্য একটি দল চূড়ান্ত হবে।