বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পৃথিবীর অন্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা এরই মধ্যে এলডিসি ডেফারের জন্য চিঠি দিয়েছি। ট্যারিফ স্ট্রাকচার পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান চাপে আছে। বিগত সময়ে নানা কারণে শিল্পের যথাযথ বিকাশ হয়নি। দেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেটের দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ.) মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আমাদের সামনে পর্বত প্রমাণ চ্যালেঞ্জ আছে। এছাড়া যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, সেগুলো সম্পর্কিতও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এরই মধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ শুরু করেছি। আগামী দিনে কাজের মধ্য দিয়েই আমাদের চেষ্টার প্রতিফলন দেখবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ কি- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত দেড় দশকে দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, অর্থনীতির মধ্যে গতি সঞ্চারের যে উদ্দীপনা থাকে- তাও ছিল না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সেই উদ্দীপনা ছিল অনুপস্থিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত অর্থনীতির দেশ নয়, এটি বিকাশমান অর্থনীতির দেশ। এখানে প্রতিবছর ২০-২২ লাখ লোক কাজের বয়সে প্রবেশ করে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য যে বিনিয়োগের দরকার, তা হয়নি। ১২-১৩ বছর সেই বিনিয়োগ স্থবিরতা ছিল। সেই স্থবিরতা গত তিন বছরে প্রকট আকার ধারণ করে, বিনিয়োগ ছিল শূন্যের কোঠায়।

এ সময় বন্ধ শিল্প-কারখানা দ্রুত চালু হবে কিনা এমন প্রশ্নে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা শিল্প-কারখানা দ্রুত চালু করার পদক্ষেপ নেয়া হবে। সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সিলেটের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করব। কাজের মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করব।

পরে হযরত শাহপরান (রহ.) ও গাজী বুরহান উদ্দিনের কবর জিয়ারত শেষে ইসলামনগর মসজিদে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন দুই মন্ত্রী।