শ্রীলংকার পাল্লেকেলেতে দুই দলের প্রথম দ্বৈরথটা বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়। চলতি এশিয়া কাপে কলম্বোয় সুপার ফোরের সব ম্যাচেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। গতকাল প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-ভারত দ্বিতীয় দ্বৈরথে ঠিকই হানা দেয় বৃষ্টি। আগে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত ২৪.১ ওভারে দুই উইকেটে ১৪৭ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৪ ঘণ্টার প্রতীক্ষা শেষে জানা যায়, আউটফিল্ড ভেজা থাকায় খেলা আর এগোনো সম্ভব নয়। ফলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথটা আজ রিজার্ড ডেতে গড়ায়। গতকাল যেখানে শেষ হয়েছে, আজ ঠিক সেখান থেকেই খেলা শুরু হবে।

আজ ম্যাচ মাঠে গড়ালে টানা তিনদিন খেলতে হবে ভারতকে। কেননা আগামীকাল মঙ্গলবার সুপার ফোরের ম্যাচে তাদের শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলার কথা। 

পাকিস্তান পেসত্রয়ী শাহিন শাহ আফ্রিদি (৮ উইকেট), নাসিম শাহ (৭ উইকেট) ও হারিস রউফরা (৯ উইকেট) প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্নের নাম হয়ে উঠেছেন। গ্রুপ পর্বের দ্বৈরথে তাদের তোপের মুখেই ৬৬ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারতীয়রা। যদিও পরে ইশান কিশান ও হার্দিক পান্ডিয়ার ফিফটির সুবাদ শেষ পর্যন্ত ২৬৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ তারা পেয়েছিল। সেই দ্বৈরথের মতো কাল অবশ্য ভারতীয়রা শুরুতেই ভেঙে পড়ল না। 

টস হেরে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছিলেন রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। উদীয়মান তারকা গিল শনিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন, শুরু থেকেই তারা আধিপত্য বিস্তার করে খেলার চেষ্টা করবেন। পাকিস্তানি পেসত্রয়ীর বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণে যাবেন। 

কথামতোই কাল ব্যাটকে তলোয়ারের মতো চালালেন গিল। আগের ম্যাচে পাকিস্তানি পেসারদের বিপক্ষে যে জড়তা ছিল, কাল তা দেখা গেল না গিলের মধ্যে।

সতর্ক রোহিত আর আক্রমণাত্মক গিলে উদ্বোধনী জুটিতেই ভারত পেয়ে যায় ১০০ বলে ১২১ রান। শুভমান ৩৭ বলে ও রোহিত ৪২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। প্রথম ওভারেই আফ্রিদিকে ফ্লিক করে ছক্কা মারেন রোহিত। পরে আরো তিনবার বলকে সীমানার ওপার আছড়ে মারেন তিনি। বাউন্ডারি ছিল ছয়টি। তার দেখাদেখি মারমুখী হন গিলও। যদিও গিল আকাশে উড়িয়েছেন কম, একের পর এক বলকে সীমানাছাড়া করেন মাটি কামড়ে। 

এক প্রান্তে নাসিম শাহ নিখুঁত লাইন-লেংথে বল করলেও অন্য প্রান্তে গিলের হাতে প্রচুর মার খাচ্ছিলেন আফ্রিদি। নাসিম প্রথম তিন ওভারে দেন ৬ রান, একই সময় আফ্রিদি দেন ৩১ রান! তখন আফ্রিদিকে সরিয়ে ফাহিম আশরাফকে আক্রমণে আনেন বাবর আজম। তবু এ দুজনকে কিছুতেই থামানো যাচ্ছিল না। ভারতের রান ১০০ অতিক্রম করে যায়। অবশেষে বিস্ফোরক এ জুটি ভাঙেন স্পিনার শাদাব খান। ১৭তম ওভারে তার ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে চিপ করে ওয়াইড লং অফে উঠিয়ে মারেন রোহিত শর্মা। ফাহিম আশরাফ অনেকটা দৌড়ে এসে দারুণ এক ক্যাচ নিয়ে সাজঘরে ফেরান রোহিতকে। রোহিতের ৪৯ বলে খেলা ৫৬ রানের ইনিংসে ছিল ৬ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কার মার। 

পরের ওভারে শুভমান গিলকে ফেরান আফ্রিদি। প্রথম তিন ওভারে তার ওপর দিয়ে টর্নেডো বইয়ে দেয়া গিল এবার হার মানেন। আফ্রিদির লেগ কাটার বুঝতে না পেরে ব্যাট পেতে দেন গিল, কভারে সহজ ক্যাচ নেন শাদাব। ৫২ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৫৮ রান করে ফেরেন গিল। ৮ বলের ব্যবধানে দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ানকে সাজঘর পাঠিয়ে ম্যাচে ফেরে পাকিস্তান (১২৩/২)। 

এরপর বিরাট কোহলি ও দীর্ঘদিন পর ওয়ানডে দলে ফেরা লোকেশ রাহুল টানছিলেন ভারতকে। রাহুল ১৭ ও কোহলি ৮ রানে অপরাজিত থেকে আজ ফের ব্যাটিংয়ে নামবেন। 

চিরাচরিতভাবেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই মানেই পাকিস্তানের পেস আক্রমণ বনাম ভারতীয় ব্যাটিং। এবারো তা-ই। এই দ্বৈরথে কারা জিতবে, সেটিই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফলটাও নির্ধারণ করে দেবে অনেকটা।