চলতি এশিয়া কাপে ফাইনালে খেলার আশা আগেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। কলম্বো থেকে বিদায়ের আগে ফাইনালিস্ট ভারতকে হারের স্বাদ দিল টাইগাররা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে গতকাল জমজমাট লড়াইয়ে রোহিত শর্মার দলকে ৬ রানে হারাল সাকিব আল হাসানের দল। বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া ২৬৬ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে এক বল বাকি থাকতে ২৫৯ রানে অলআউট হয় এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ওয়ানডেতে ৪০ বারের মোকাবেলায় এটা ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অষ্টম জয়। ভারত জিতেছে ৩১টি।

কাল পেন্ডুলামের সুতোর মতো দুলতে থাকা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে অক্ষর প্যাটেল ও শার্দূল ঠাকুরের ব্যাটে ভর করে জয়ের সম্ভাবনা জাগায় ভারত। শেষ ১২ বলে ১৭ রানের প্রয়োজন পড়ে তাদের। যদিও ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে শার্দূলকে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন মুস্তাফিজ। এক বল পরেই অক্ষর বাউন্ডারি মারলে ম্যাচ ফের ঝুলে পড়ে ভারতের দিকে। চতুর্থ বলে অক্ষরকেও সাজঘরে পাঠিয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান বাংলাদেশের বহু যুদ্ধের নায়ক মুস্তাফিজ। সম্ভবত সেখানেই বাংলাদেশের জয়ের চিত্রনাট্যও লেখা হয়ে যায়।

৪৯তম ওভারে ৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। তাতে শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন পড়ে ১২ রান, হাতে এক উইকেট। উদ্দীপ্ত তরুণ তানজিমের হাতেই বল তুলে দেন সাকিব। দলকে হতাশ করেননি অভিষিক্ত তানজিম। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হলে খানিকটা দুশ্চিন্তা নামে। যদিও পঞ্চম বলে শামি রানআউটের শিকার হলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান রোহিত শর্মা। ৫৯ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারিয়ে বড় লজ্জায় পড়তে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। সাকিব ও তৌহিদ হৃদয় ফিফটি করে সেখান থেকে টেনে তোলেন বাংলাদেশকে। লোয়ার অর্ডারও দারুণ ব্যাটিং করে দলকে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের সংগ্রহ এনে দেন। ব্যাটারদের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে পরে বোলাররা জেতান বাংলাদেশকে। 

বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেকেই উজ্জ্বল তানজিম। ব্যাট হাতে এক চার ও এক ছক্কায় ১৪ রান করার পর বল হাতেও আগুন ঝরান। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে কভার পয়েন্টে এনামুল হকের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি। নিজের পরের ওভারে ভারতের অভিষিক্ত তিলক ভার্মাকে বোল্ড করেন এ তরুণ। এর পরও দুর্দান্ত বল করে যান তিনি। অভিষেকেই তার স্বপ্নের মতো বোলিং ফিগার ৭.৫-১-৩২-২।

অবশ্য সহজে জয় আসেনি। সাকিব, মিরাজ, মেহেদী ও মুস্তাফিজের কল্যাণে একদিকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেটের পতন ঘটছিল, কিন্তু অন্য প্রান্তে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান শুভমান গিল। দলের বিপর্যয়ের সময় করেন লড়াকু এক সেঞ্চুরি। ১১৭ বলে পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চরি পূর্ণ করেন ২৪ বছর বয়সী এ ব্যাটার। রান তাড়া করার সময় এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি। আগের চারটিই করেন প্রথমে ব্যাটিং করার সময়। 

১৩৩ বলে ১২১ রান করে তিনি মেহেদী হাসানের শিকার হন। তার বিদায়ের পর অক্ষর প্যাটেল ও শার্দূল ঠাকুরের ব্যাটে লড়ছিল ভারত। যদিও তরুণ তানজিম, সাকিব (১/৪৩) ও স্বরূপে ফেরা মুস্তাফিজের (৩/৫০) কাছে শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে ভারত। 

এ ম্যাচে বিরাট কোহলি, হার্দিক পান্ডিয়াকে বিশ্রাম দেয় ভারত। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫৯ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে সাকিব আল হাসান (৮০) ও তৌহিদ হৃদয়ের (৫৪) হাফ সেঞ্চুরি দলের সংগ্রহটা দুশর কাছাকাছি নিয়ে যায়। ১৬০ রানের মাথায় সাকিব ও ১৯৩ রানের সময় হৃদয় সাজঘরে ফেরার পর দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয় লোয়ার অর্ডার। স্পিনার নাসুম আহমেদ (৪৪) কাল অনবদ্য ব্যাটিং করেন। তিনি ৪৫ বলে ৪৪ রান করেন ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়। এছাড়া শেখ মেহেদী হাসান ২৩ বলে ২৯ ও অভিষিক্ত তানজিম হাসান ৮ বলে ১৪ রান করেন। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন শার্দূল ঠাকুর। 

ফাইনালের আশা আগেই শেষ হয়ে যাওয়া শেষ ম্যাচে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। মূল পেসার তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলামকে বিশ্রাম দিয়ে দলে ফিরিয়ে আনা হয় মুস্তাফিজুর, তানজিম ও নাসুমকে। ৯ মাস পর দলে ফেরেন এনামুল হক বিজয়। মেহেদী হাসান ও ওপেনার তানজিদ কাল একাদশে ফেরেন।

ভারতীয় দলেও ছিল পাঁচটি পরিবর্তন। অভিষেক হয়েছে তিলক ভার্মার। এছাড়া সূর্যকুমার যাদব, মোহাম্মদ শামি, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও শার্দূল ঠাকুর ‌একাদশে ফিরেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ম্যাচে ভারত পেল হারের লজ্জা। বাংলাদেশের কাছে হারলেও আগামীকাল শ্রীলংকার বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে ভারত। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (সাকিব ৮০, হৃদয় ৫৪; শার্দূল ৩/৬৫, শামি ২/৩২)। ভারত: ৪৯.৫ ওভারে ২৫৯/১০ (শুভমান ১২১, অক্ষর ৪২; মুস্তাফিজ ৩/৫০, তানজিম ২/৩২, মেহেদী ২/৫০, সাকিব ১/৪৩)। ফল: বাংলাদেশ ৬ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।