সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার চারদিন পর গতকাল রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত স্পেশাল ট্রেন চালুর পর রাতে উভয় পথে আন্তঃনগর ট্রেন তূর্ণা ও মেইল ট্রেন দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে বন্দরনগরীর যাত্রী পরিবহন শুরু হয়। তবে ফেনীর ১০ কিলোমিটার রেলপথ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচল করা ট্রেনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার। আজ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে সব ধরনের ট্রেন চলাচল শুরু করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। 

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ফেনী থেকে ফাজিলপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রেলপথের সম্পূর্ণ রেলপথ ওয়াশআউট হয়ে যায়। এ পথে বন্যার পানির তোড়ে রেলপাত ও স্লিপার ছাড়া মাটি, পাথর রেললাইন থেকে সরে যায়। পাথরের নিচে মাটি ও বালি নরম হওয়ায় রেলপথটি মেরামত করতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের। গতকাল দুপুরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক, প্রধান প্রকৌশলীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং রেলভবন থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শন শেষে রাত থেকে ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত দেন। 

রেলের এক কন্ট্রোল আদেশে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয় গতকাল রাত থেকে। রাত সাড়ে ১১টায় ৭৪১ নং তূর্ণা এক্সপ্রেস ও পৌনে ১২টায় চট্টগ্রাম মেইল (১ আপ) চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যায়। একইভাবে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ৭৪২ নং তূর্ণা এক্সপ্রেস ও রাত পৌনে ১২টায় ঢাকা মেইল (২ ডাউন) যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে আসে। আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ড কনটেইনার ট্রেন ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। 

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফেনীতে ভয়াবহ বন্যার কারণে রেলের সম্পদ ও মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফেনীতে রেলের ১০ কিলোমিটার রেলপথ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি বেরিয়ে আসছে। এর পরও দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আজ (সোমবার) থেকে সীমিত পরিসরে ট্রেন চালানো হচ্ছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে পণ্যবাহী, কনটেইনার ও জ্বালানিবাহী ট্রেন এবং সব ধরনের ট্রেন সার্ভিস চালু করে দেয়া হবে।’

রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পুরোটাই ডাবল লাইন হলেও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম-ঢাকার আপ লাইনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে একটিমাত্র লাইন অর্থাৎ ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাউন লাইনের মাধ্যমে ট্রেনের গতিসীমা হ্রাস করে ট্রেন চালানো হচ্ছে। আগে এ পথ দিয়ে ৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিবেগে মিটার গেজ ট্রেন চলাচল করত। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উভয় পথের মাটি, পাথর ও ট্র্যাকের সংস্কার শেষে পর্যায়ক্রমে পুরনো গতিতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। 

গত বুধবার থেকে কুমিল্লা ও ফেনীর বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে থাকে। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়। এ সময় ফেনীতে রেললাইন ডুবে যায়। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে রেলওয়ে। 

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পরিদর্শন করা হয়েছে। বন্যায় দুটি রেললাইন থেকে পাথর সরে গেছে। কিছু কিছু অংশে সংস্কার কাজ শুরু করেছে প্রকৌশল বিভাগ। সংস্কারকাজ শেষে পুরোদমে ট্রেন চালাতে কিছুদিন সময় লাগবে।’