শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চলমান সংকট নিরসনের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি সিলেটে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তিনি বিমানযোগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। এ সময় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী এমরান আহমদ।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর আগমন
উপলক্ষে গণজমায়েতের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সকাল ৯টায়
বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ গণজমায়েতের ডাক দেয়া হয়। আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী
জানান, তাদের মূল দাবি
উপাচার্যের পদত্যাগ। এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে
যাবেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজ থেকে এ
ঘোষণা দেয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী সকাল
সাড়ে ৯টায় সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে
মতবিনিময় সভা করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করে হযরত
শাহজালালের মাজার জিয়ারত শেষ করে সিলেট সার্কিট হাউসে যাবেন।
এরপর বিকেল ৩টায় শাহজালাল
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে সিলেট সার্কিট হাউস ত্যাগ করেবেন।
বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শাবিপ্রবির চলমান সংকট সমাধানের জন্য
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে রাত
৮টা ২০ মিনিটে একটি ফ্লাইটে করে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি
প্রভোস্টবিরোধী আন্দোলনের সময় অবরুদ্ধ ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে মুক্ত
করতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশসহ অর্ধশতাধিক
আহত হন। হামলার পরপরই সেই আন্দোলন ভিসিবিরোধী
আন্দোলনে রূপ নেয়, পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগ
তুলে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক ও প্রক্টরিয়াল বডিরও পদত্যাগ দাবি করেন
তারা।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ১৯
জানুয়ারি থেকে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেন। ১৬৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর ২৬
জানুয়ারি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক শিক্ষার্থীদের
অনশন ভাঙান। সেসময় শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়া হবে বলেও তারা আশ্বস্ত করেন।
এরপর অনশন থেকে সরে আসলেও অন্যান্য কর্মসূচি দিয়ে সরব রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।










