ঢাকায় তিনদিন ধরে চলা ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসরকার রেলওয়ে মিটিংয়ে (আইজিআরএম) মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস কবে চালু হবে, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গতকাল রেলভবনে আইজিআরএম বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এসব ট্রেন বন্ধ করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এগুলো বন্ধ করেছে। ফলে চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।’
মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, ‘ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব আকারে এলে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। কারণ পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলেনি। নতুন রুটে ট্রেন চালাতে কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।’
পদ্মা সেতু হয়ে ট্রেন চলাচল নিয়ে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।’
বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে এ দুটি ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না। তবে গত বছরের বৈঠকে এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।’
ভারতের দলটির নেতৃত্ব দেন ভারতের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সদস্য (ট্রাফিক) দীপক কুমার ঝা।
তিনি জানান, বাংলাদেশ অংশের প্রস্তাব অনুযায়ী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি পদ্মা সেতু দিয়ে চালুর বিষয়টি ভারতীয় এজেন্ডার অংশ ছিল। তবে পুনরায় চালু করা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
যাত্রীবাহী সেবার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালন ব্যবস্থা আরো জোরদার ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে বলে জানান প্রতিনিধি প্রধান। তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক নোটেই এবারের আইজিআরএম বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে এবং আগামী বছর পরবর্তী আইজিআরএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে নয়াদিল্লিতে।’










