লড়াইটা ভারতের ব্যাটিং বনাম পাকিস্তানের পেস বোলিং। এ লড়াইয়ের ফলই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেরও ফল নির্ধারণ করে দেয়ার কথা। তেমনই হলো। দ্বৈরথে জিতল ভারতের তারকাখচিত ব্যাটিং, জিতল ভারতও। এশিয়া কাপে গতকাল সুপার ফোরের বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুলের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ২ উইকেটে ৩৫৬ রানের সৌধ গড়ে ভারত। এ পথে কোহলি তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৭তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি (৯৪ বলে ১২২*), আর চোট কাটিয়ে ওয়ানডে দলে ফেরা রাহুল করেছেন ষষ্ঠ সেঞ্চুরি (১০৬ বলে ১১১*)। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ মাত্র ১২৮ রানে!
শ্রীলংকার মাটিতে পরে ব্যাটিং করে কোনো দল ৩২২ রানের বেশি তুলতে পারেনি। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আবার সর্বোচ্চ চেজ ৩০১ রান। পারল না বাবর আজমের দলও। তারা চেজ করতে নেমে ৩২ ওভারে ১২৮ রানে গুটিয়ে গিয়ে ২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের লজ্জা পেয়েছে। অবশ্য চোটগ্রস্ত হারিস রউফ ও নাসিম শাহ ‘অ্যাবসেন্ট হার্ট’ থাকায় ব্যাটিংয়েই নামতে পারেননি। বামহাতি স্পিনার কুলদীপ যাদব একাই নেন ৫ উইকেট। এছাড়া গতি বোলার জসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া ও শার্দূল ঠাকুর একটি করে উইকেট নেন।
রোববার ১২৩ রানে দুই উইকেট পতনের পর কাল রিজার্ভ ডেতে ১৯৪ বলে ২৩৩ রানের অনন্যসাধারণ জুটিতে ভারতের সংগ্রহটা সাড়ে তিনশ পার করেন কোহলি ও রাহুল। তারা দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি পেয়েছেন পাকিস্তানি বোলার ও ফিল্ডারদের সাহায্য! দুই বল বাকি থাকতে স্কোরটা ছিল ৩৪১/২। ফাহিম আশরাফ ওভারস্টেপ ‘নো বল’ করলেন। এরপর কোহলির দুটি সুপার শটে স্কোর গিয়ে পৌঁছায় ৩৫৬ রানে। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ স্কোর ভারতের। ২০০৫ সালে বিশাখাপত্তনমে ৯ উইকেটে ৩৫৬ রান তুলেছিল দলটি।
শ্রীলংকার পাল্লেকেলেতে দুই দলের প্রথম দ্বৈরথটা বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়। রোববার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-ভারত দ্বিতীয় দ্বৈরথেও হানা দেয় বৃষ্টি। আগে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত ২৪.১ ওভারে দুই উইকেটে ১৪৭ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সেদিন আর খেলা না হওয়ায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথটা গতকাল রিজার্ড ডেতে গড়ায়। রোববার যেখানে শেষ হয়েছে, কাল সোমবার ঠিক সেখান থেকেই খেলা শুরু হয়।
গতকালও দুপুরে বৃষ্টি ছিল কলম্বোয়। ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট বিলম্বে অবশেষে খেলা শুরু হলে ভারতীয়রা ব্যাটাররা কর্তৃত্ব করতে থাকেন। রোববার চোট পাওয়ায় কাল বলই করতে পারেননি আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হারিস রউফ। এটা পাকিস্তানের বোলিং অ্যাটাক বেশ দুর্বল করে দেয়। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (১/৭৯) চেনা গেল না এদিন। তার বলকে একের পর এক মাঠের বাইরে পাঠান কোহলি ও রাহুল। ফাহিম আশরাফ (০/৭৪), শাদাব খান (১/৭১), ইফতিখার আহমেদের (০/৫২) ওপর দিয়েও রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। নাসিম শাহ ৯.২ ওভারে দেন ৫৩ রান। সঙ্গে ছিল ফিল্ডারদের হতশ্রী পারফরম্যান্স।
রাহুল ১০০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার কিছুক্ষণ পরই তিন অংক ছুঁয়েছেন কোহলি। তিনি মাত্র ৮৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে কোহলির সামনে শুধুই শচীন টেন্ডুলকার। ৪৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে রেকর্ডের অধিকারী ভারতীয় কিংবদন্তি। আর দুটি সেঞ্চুরি পেলেই শচীনকে টপকে যাবেন কোহলি। ৩০টি সেঞ্চুরি নিয়ে কোহলির পরেই তার সতীর্থ রোহিত শর্মা। এরপরের দশজন অবসর নিয়েছেন। পাকিস্তান দলনায়ক বাবর আজম ১৯টি সেঞ্চুরি করেছেন। উল্লেখ্য, সব মিলিয়ে কোহলির আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি এখন ৭৭টি।
কলম্বোয় চার ইনিংস খেলে চার সেঞ্চুরি করলেন কোহলি! গত বছর এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে এক বছরে মোট সাতটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। গতকাল পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ১৩ হাজার রানের মাইলফলকেও পৌঁছেন কোহলি। এটি ওয়ানডেতে দ্রুততম ১৩ হাজার রান। এর আগে ওয়ানডেতে দ্রুততম ৮ হাজার, ৯ হাজার, ১০ হাজার, ১১ হাজার ও ১২ হাজার রান করার কীর্তিও গড়েন কোহলি। ২৭৮ ম্যাচে তার রান এখন ১৩ হাজার ২৪। তার সামনে রয়েছেন টেন্ডুলকার (১৮,৪২৬), কুমার সাঙ্গাকারা (১৪,২৩৪), রিকি পন্টিং (১৩,৭০৪) ও সনাথ জয়সুরিয়া (১৩,৪৩০)।
কলম্বোয় টানা তিনদিন মাঠে থাকতে হবে ভারতকে। আজ সুপার ফোরের ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলবে তারা। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং-বোলিংয়ে দাপট দেখানোয় আজ নিশ্চিতভাবেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে রোহিত শর্মার দল।
চলতি এশিয়া কাপে পাকিস্তান পেস ত্রয়ী শাহিন শাহ আফ্রিদি (৮ উইকেট), নাসিম শাহ (৭ উইকেট) ও হারিস রউফ (৯ উইকেট) প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্নের নাম হয়ে ওঠেন। গ্রুপ পর্বের দ্বৈরথে তাদের তোপের মুখেই ৬৬ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ভারতীয়রা। সুপার ফোরের ম্যাচেও তাদের নিয়ে ছিল জোর আলোচনা। যদিও কোহলি-রাহুলের ধ্রুপদি ব্যাটিংয়ের সামনে তারা যেন পাড়ার বোলার হয়ে গেলেন। পরে বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো শীর্ষ ব্যাটসম্যানরাও যেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সামনে ব্যাটিংটা ভুলে গেলেন! সবসময়ই বড় আসরে, বড় ম্যাচে ভারতের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান। এবারো তার ব্যতিক্রম হলো না।










