ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের পাঁচটি পয়েন্টে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে নদীতে পানি কমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে ওই রুটে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় বেশি ও ৬০০ লিটার বেশি জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে। এ অবস্থায় নৌযান সংশ্লিষ্টদের খরচ বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটে নাব্য সংকট সৃষ্টির জন্য বিআইডব্লিউটিএর অপরিকল্পিত ডেজিংই দায়ী। নদীর বালি উত্তোলন করে ফের নদীতেই ফেলে দেয়ায় ড্রেজিংয়ের চার-পাঁচ মাস পর নদী পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। তাই ড্রেজিংয়ের প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ রুটের চলাচলকারী নৌযান চালক ও যাত্রীরা। পাশাপাশি ডুবোচরে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

পারাবত-১০ লঞ্চের চালক বা মাস্টার মো. জাহিদ জানান, বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের পাঁচ থেকে ছয়টি পয়েন্ট নাব্য সংকটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বাউশিয়া-নলবুনিয়া চ্যানেল, বরিশালের শায়েস্তাবাদ সংলগ্ন কীর্তনখোলা ও আড়িয়াল খাঁসহ তিন নদীর মোহনায় পলিমাটি জমে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া হিজলার গ্রিন বিকন এলাকা, মেহেন্দিগঞ্জের কাটাখালী চ্যানেলের ১ নং লাল বয়া ও ২ নং স্ফেরিক্যাল বয়ার কাছে পানি কম। তাই ওই এলাকা থেকে লঞ্চ অতিক্রমের সময় আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাস্টার জানান, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং করে নদীর বালি নদীতে ফেলে দেয়। এতে চার-পাঁচ মাস পর ফের নাব্য সংকট দেখা দেয়।

ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের যাত্রী নাসির আহমেদ পিন্টু বলেন, আমি প্রত্যেক সপ্তাহে দুবার ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করি। শীত মৌসুম এলেই এ রুটে পানি কমে লঞ্চ চরে আটকে পড়ে। তখন আতঙ্কের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। ফলে প্রায়ই আমি ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হই। তাই সরকারের উচিত নিয়মিত ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা।

ঢাকা বরিশাল নৌ-রুটের বিলাসবহুল লঞ্চ অ্যাভেঞ্চারের মালিক নিজাম উদ্দিন বলেন, সরকার আশ্বাস দিয়েছে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করবে এ রুটে। কিন্তু ড্রেজিং বিভাগের কাজের অবস্থা আমরা নৌযান সংশ্লিষ্টরা জানতে চাই। তাই ড্রেজিং করার সময় যেন আমাদের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়। বিষয়টি তাদের নজরে থাকা জরুরি। পাশাপাশি ড্রেজিং বিভাগ কী কাজ করছে তাও মনিটরিং করা দরকার।

বাংলাদেশ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সম্প্রতি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমরা ক্যাপিটাল ড্রেজিং করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি ড্রেজিংকালে নৌযান মাস্টার ও লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি রাখার জন্য বলা হয়েছে। এরই মধ্যে যেসব ড্রেজিং হয়েছে তা ভালোভাবে হয়নি। এছাড়া নদী খনন করা বালি নদীতেই ফেলা হয়েছে। এবার যেন বাইরে বালি ফেলা হয়, বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ চ্যানেল সচল না রাখলে যাত্রী চলাচল ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নৌবন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাঁচটি পয়েন্টে নাব্য সংকটের বিষয়ে আমরা জেনেছি। নাব্য সংকটের কারণে জাহাজ চলাচল করতে সমস্যা হয়। বিকল্প পথ ব্যবহার করছে নৌযানগুলো। এতে সময় বেশি লাগে। নতুন করে ড্রেজিং করার বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, নৌ প্রতিমন্ত্রী, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান বরিশালে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা ঢাকা বরিশাল নৌ-রুটসহ ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায় ড্রেজিং করবেন। বর্তমানে ভোলায় ড্রেজিং চলছে। বরিশালে ড্রেজিং করার জন্য এ এলাকার মানুষের মতামত নিয়ে গেছেন। সে আলোকে খননকাজ শুরু হবে।