ইন্টার্ন চিকিত্কদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম)। শনিবার বেলা ২টা থেকে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো চলে। ফলে চিকিৎসা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে হাসপাতালটিতে।
ইন্টার্ন চিকিৎসদের কর্মবিরতির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বিগুণ রোগী মারা গেছে এ হাসপাতালে। চিকিৎসা সংকটের কথা স্বীকার করে দ্রুত সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন।
গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালে ১৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছিল ১০ জনের।
৫০০ শয্যার শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ২০১০ সালে এক হাজার শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল বাড়েনি। উপরন্তু ৫০০ শয্যার জনবলেই রয়েছে ঘাটতি। হাসপাতালে গড়ে রোগী ভর্তি থাকছে দেড়-দুই হাজার। তাদের জন্য প্রায় ৫০০ চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৯৫ জন। এর মধ্যে পরিচালকসহ পাঁচজন ডাক্তার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। বাকি ৯০ জন ডাক্তার তিন শিফটে সেবা দেন হাজারো রোগীর।
প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক চিকিৎসক পদ শূন্য থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ প্রতিনিয়ত। এর ওপর শনিবার দুপুর থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দুদিনেও ডাক্তারের দেখা না পেয়ে ক্ষুব্ধ অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা।
বরিশাল শেবাচিম শাখা ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সজল পান্ডে বলেন, রোগীদের কষ্ট দেয়া বা তাদের জিম্মি করা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য নয়। তবে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি প্রয়োজন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবি মেনে নিলেই তারা কাজে ফেরার কথা বলেন।










