রাজশাহীতে অবস্থিত বড়কুঠি ডাচদের নির্মিত একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে নির্মিত স্থাপনাটি দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করত ডাচরা। কালের পরিক্রমায় এখন অনেকটাই জরাজীর্ণ এ বড়কুঠি। তবে সংস্কার ও সংরক্ষণ করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ জাদুঘরে রূপ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গতকাল প্রথম ধাপের সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, ভবনটি ডাচরা নির্মাণ করেছিলেন। বিষয়টি মাথায় রেখেই জাদুঘরটিতে ডাচদের ব্যবহূত জিনিসপত্র, ছবি ও পেইন্টিং স্থান পাবে। বড়কুটি নির্মাণের ইতিহাসসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমৃদ্ধ করা হবে এ জাদুঘর। ডাচদের ব্যবহূত জিনিসপত্র, তথ্য-উপাত্ত কারো সংরক্ষণে থাকলে তা জাদুঘরের জন্য দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে মে মাসে বড়কুঠিকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। কিন্তু করোনা মহামারীর জন্য বড়কুঠির সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজ থমকে যায়। প্রথম পর্যায়ে ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ শুরু হলো।

এরই মধ্যে বড়কুঠিকে একটি প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। সে প্রকল্প থেকে বড় অংকের অর্থ পাওয়া যাবে। সংস্কার ও সংরক্ষণের পর বড়কুঠিকে জাদুঘরে পরিণত করা হবে। কাজ শেষে জাদুঘরটি জনগণের জন্য খুলে দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী ও রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ সরিফুল ইসলাম বাবু। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবির বিন কায়সার, প্রকৌশলী খলিলুর রহমান প্রমুখ।

১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর বড়কুঠি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এখনো ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানায় রয়েছে।