উচ্চ আমদানি উপাদান রয়েছে, এমন পণ্য রফতানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এ ধরনের রফতানিকারকরা রফতানি আয়ের দেশে প্রত্যাবাসিত এফওবি মূল্যের ৭ দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। এর ফলে কাঁচামাল আমদানি, বিদেশে বিভিন্ন ধরনের পরিশোধ এবং বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনায় রফতানিকারকদের তারল্য ও নমনীয়তা বাড়বে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনের কপি দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী (অথরাইজড ডিলার) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই জারি করা এফই সার্কুলার নং-৩১-এর অনুচ্ছেদ ৭৬(১)-এ উচ্চ আমদানিনির্ভর পণ্য রফতানিকারকদের দেশে প্রত্যাবাসিত এফওবি মূল্যের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ইআরকিউ হিসাবে রাখার সুযোগ ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই সীমা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে সার্কুলারের অনুচ্ছেদ ৭৬-এর অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ আমদানিনির্ভর শিল্প—বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ, প্রকৌশল পণ্যসহ যেসব রফতানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি, তারা এ সিদ্ধান্তের সুফল পাবে। বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশ নিজস্ব হিসাবে ধরে রাখার সুযোগ বাড়ায় আমদানি ব্যয় মেটানো, বিদেশে সেবা গ্রহণের অর্থ পরিশোধ এবং অন্যান্য অনুমোদিত বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনা সহজ হবে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রফতানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নীতিগত সমন্বয় করছে। সর্বশেষ এ সিদ্ধান্তও রফতানিকারকদের কার্যকর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।










