ছয় দফা দাবিতে দুই শতাধিক জ্বালানি তেল বহনকারী ট্যাংক-লরি নিয়ে র্যালি করেছেন সিলেটের জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে নগরীর হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে র্যালি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত তেল সংকট নিরসন না করলে আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সিলেটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। দিন দিন এ সংকট তীব্র হচ্ছে। অনেক পেট্রোলপাম্প তেল সরবরাহ করতে পারছে না। আবার কোনো কোনো পাম্পে পেট্রোল থাকলে অকটেন নেই কিংবা কারো নেই ডিজেল। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে সিলেটে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের চাহিদা দেড় লাখ লিটারেরও বেশি। অথচ, সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬০ হাজার লিটার। আর এসব জ্বালানি আসে রেলের ওয়াগনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে। বতর্মানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল। সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলো চলতি মৌসুমে চাহিদা মতো জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এক সপ্তাহের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাতেও কোনো সমাধান হয়নি।
এদিকে জ্বালানি খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারসন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটি; বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটি; বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটি; বাংলাদেশ এলপিজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটি এবং সিলেট বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে সিলেট বিভাগীয় পেট্রলপাম্প, সিএনজি, এলপিজি, ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ গঠন করা হয়।
এ সংগঠনের পক্ষ থেকে ওভারলোডের অজুহাতে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ করা, অবিলম্বে সিলেট বিভাগের প্রতিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, সিলেট বিভাগে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন সরবরাহ নিশ্চিত করা, সিলেটের প্রতিটি গ্যাস ফিল্ড থেকে ট্যাংক লরির ডেসপাস চালু করা, অবিলম্বে সিলেট বিভাগের প্রতিটি গ্যাস ফিল্ডস আগের মতো চালু করা এবং জ্বালানি ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সরকারের হয়রানি বন্ধ করা মিলিয়ে মোট ছয়টি দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় পেট্রোলপাম্প, সিএনজি, এলপিজি, ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক সিরাজুল হোসেন আহমদ আলমগীর জানান, সিলেটের সিএনজি ও এলপিজি পাম্পের মালিকেরা দীর্ঘদিন এসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। দেশের অন্য কোনো জেলায় এমন সমস্যা নেই। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা না হলে সংগঠনের আওতায় বিভাগের প্রায় ২০০টি পাম্পের মালিক-শ্রমিকেরা আরো কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি।
অনিয়মিত তেল সরবরাহ
সিলেটে দুই শতাধিক ট্যাংক-লরি নিয়ে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ
ছয় দফা দাবিতে দুই শতাধিক জ্বালানি তেল বহনকারী ট্যাংক-লরি নিয়ে র্যালি করেছেন সিলেটের জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার বেলা ১১টা থেকে নগরীর হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে র্যালি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত তেল সংকট নিরসন না করলে আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।










