ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল। এর ব্যাখ্যায় বিসিবির নির্বাচকরা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের পুরো আসরে খেলার মতো ফিট নন তিনি। তবে গতকাল বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তামিম জানিয়েছেন, ফিজিও রিপোর্টে তিনি খেলতে পারবেন না এমন কিছু ছিল না।
তামিম ইকবাল বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আমি অবসরে যাই, অবসরে যাওয়ার কারণ ছিল। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ফিরে আসি রিটায়ারমেন্ট থেকে। এরপর দুই মাস আমি প্রচণ্ড পরিমাণ কষ্ট করি নিজেকে ফিট করার জন্য। আমি নিশ্চিত, যারা সম্পৃক্ত ছিল এটাতে, ফিজিও থেকে শুরু করে সবাই; আমি নিশ্চিত সবাই একমত হবেন, এমন কোনো সেশন বা এক্সারসাইজ নেই যেটি ওনারা চেয়েছেন কিন্তু আমি করি নাই নিজেকে ফিট করার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর মানসিকভাবে আমি খুব খুশি ছিলাম। গত চার-পাঁচ ম্যাচের যত বিষয় সব ভুলে গিয়েছিলাম। ম্যাচ শেষে আমার ইনজুরির অবস্থা ফিজিওকে জানাই। তখন ড্রেসিংরুমে নির্বাচকরা আসেন। আমি তাদের বলেছিলাম, আমার অবস্থা সামনে এমনই থাকবে। আমাকে দলে রাখলে বিষয়টি মাথায় রাখবেন। হোটেলে যাওয়ার পর আমাকে ফিজিও পর্যবেক্ষণ করেন।’
তামিম ইকবাল বলেন, ‘ফিজিও’র রিপোর্টে ছিল প্রথম ম্যাচের পর আমার ব্যথার অবস্থা কী, দ্বিতীয় ম্যাচের পর কী হয়েছে। সেক্ষেত্রে ২৬ তারিখের (নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ ম্যাচ) ম্যাচের দিন অবস্থা কেমন হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খেলার জন্য আমি প্রস্তুত। তবে আমাকে বলা হয়েছিল আমি রেস্ট নিতেও পারি।’
তিনি বলেন, ‘কোনো জায়গায় বলা হয়নি, পাঁচ ম্যাচ-দুই ম্যাচ, ইনজুরি, খেলতে পারব না—এত কিছু। হ্যাঁ, আমার শরীরে পেইন ছিল, যেটা অস্বীকার করছি না। যেটা আমি প্রেস কনফারেন্সেও বলেছি। বেসিক্যালি এটা হয়েছে। তারপর যেটা ঘটেছে, আমার কাছে যেটা মনে হয়, মিডিয়ায় যেটা আসতেছে ইনজুরি, পাঁচ ম্যাচ...আমার কাছে মনে হয় না যে বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনে এটার বড় অবদান ছিল। কারণ আমি যেহেতু ইনজুরড হইনি এখনো, ব্যথা থাকতে পারে কিন্তু ইনজুরড হই নাই এখনো।’
তামিম বলেন, ‘আমাকে বোর্ডের টপ লেভেল থেকে একজন ফোন করলেন। সে বেশ ইনভলভড আমাদের ক্রিকেটের সাথে। আমাকে হঠাৎ ফোন করে বললেন, তুমি তো ওয়ার্ল্ড কাপে যাবা, তোমাকে তো ম্যানেজ করে খেলতে হবে। তুমি এক কাজ করো, তুমি প্রথম ম্যাচ খেলো না, আফগানিস্তানের সঙ্গে। আমি বললাম, ভাই, এটা এখনো ১২-১৩ দিনের কথা। আমি তো এর মধ্যে ভালো কন্ডিশনে থাকব। কী কারণে খেলব না? তখন বলল, আচ্ছা, তুমি যদি খেলোও, আমরা এমন একটা প্ল্যান করতেছি, তুমি যদি খেলোও তাহলে নিচে ব্যাট করাব।’
তিনি বলেন, ‘ন্যাচারালি ভাই একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমি কোন মাইন্ডসেট থেকে আসতেছিলাম। হঠাৎ করে একটা ভালো ইনিংস খেলেছি। আমি হ্যাপি ছিলাম। হঠাৎ করে এসব ধরনের কথা আমার পক্ষে নেয়া সম্ভব না। আমি ১৭ বছর ধরে এক পজিশনে ব্যাটিং করেছি। জীবনে কোনোদিন তিন-চারে ব্যাটিংই করিনি। এ রকম যদি হতো আমি তিনে ব্যাটিং করি, চারে ব্যাটিং করি, তাহলে যদি ওপর-নিচ করা হয়, সেটা মানিয়ে নেয়া যেত। কিন্তু আমার তিনে-চারে-পাঁচে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই। আমি কথাটা ভালোভাবে নিইনি। আমি উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ কথাগুলো পছন্দ হয়নি। মনে হচ্ছিল আমাকে জোর করে অনেক জায়গায় বাধা দেয়া হচ্ছে ইচ্ছা করে। এটা ঠিক হইল, এখন আরেকটা জিনিস নতুন করে বলি। দিস ইজ হোয়াট আই ফেল্ট। তখন আমি বললাম, দেখেন, আপনারা একটা কাজ করেন, যদি আপনাদের এমন চিন্তাধারা থাকে, তাহলে আপনারা আমাকে পাঠায়েন না। আমি এ নোংরামির মধ্যে থাকতে চাই না। প্রতিদিন আপনারা আমাকে একেকটা নতুন জিনিস ফেস করাবেন, আমি এ জিনিসগুলোয় থাকতে চাই না। তার পরও ফোনে ওনার সঙ্গে আমার অনেক কথাবার্তা হয়। সেগুলো এই প্লাটফর্মে না বলাই ভালো। এটা আমার আর ওনার মধ্যেই থাক।’
এ ওপেনার বলেন, ‘আমাদের অনেকেরই অভ্যাস আছে বড় একটা জিনিসকে ঢাকার জন্য আরেকটা জিনিস ফিড করে দেয়া। সে পাঁচ ম্যাচ খেলবে, তাকে ক্যামনে সিলেক্ট করব। অ্যাজ আই সেইড ইট ওয়াজ ফলস। এমন কোনো কথাই হয়নি। আমি নিশ্চিত সেদিন টিম সিলেক্টর ছিল, সাথে আমার ফিজিও ছিল, ট্রেনার ছিল—সবাই ছিল। কী বলেছি, সেটা আপনাদের সঙ্গেও ক্লিয়ার করেছি। বাট ওভারঅল আমার কাছে মনে হয়, ইফ ইউ রিয়েলি ওয়ান্ট মি, দেন ইউ শুড মেক মি মেন্টালি ফ্রি অ্যান্ড হ্যাপি। বিকজ আই অ্যাম কামিং আউট অব আ ভেরি ব্যাড থ্রি-ফোর মান্থস। আমার জন্য খুব কঠিন ছিল তিন-চার মাস। হয়তো এ কথাই যদি আমাকে ডিফারেন্টলি প্রেজেন্ট করা হতো, তাহলে হয়তো আমি বিষয়টি মেনে নিতাম, অন্যভাবে রিঅ্যাক্ট করতাম। কিন্তু হঠাৎ করে কেউ যদি ফোন করে বলে, খেলিয়েন না বা বলে যে আচ্ছা যদি খেলেনও, আমাদের এমন আলোচনা হচ্ছে নিচে ব্যাটিং করাবে, আই অ্যাম নট টু শিওর যে এটা কতটুকু ফেয়ার। দিস ইজ হোয়াট হ্যাজ এক্সাক্টলি হ্যাপেনড।’










