ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানেই থাকবেন কিনা, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, যে পরিস্থিতিতে তিনি ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছেন, সেই পরিস্থিতিই তার এ সিদ্ধান্তের কারণ। তার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে, তা তাকেই স্থির করতে হবে। খবর এনডিটিভি।
আজ শনিবার নয়াদিল্লিতে হিন্দুস্তান টাইমসের লিডারশিপ সামিটে এক প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়েছেন, সেই পরিস্থিতিই তার বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। এ বিষয়ে তাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে সহিংসতার মধ্যে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। ওই সময় দেশজুড়ে সহিংসতায় অগণিত মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেন। যদিও এ সময়ও সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী পলাতক অবস্থাতেই ছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতে যতদিন থাকতে চান, থাকতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, এটি আলাদা বিষয়। তিনি ভারতে যেভাবে এসেছেন, সেটিই মূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই।
ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর জানান, প্রতিবেশী দেশের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান সব সময় স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। বাংলাদেশে অতীতে নির্বাচন নিয়ে যেসব অভিযোগ ছিল, সেগুলো তখন ক্ষমতায় থাকা পক্ষেরও উদ্বেগের বিষয় ছিল। তাই যদি নির্বাচনই মূল সমস্যা হয়, তাহলে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ভারত সব সময় চায় প্রতিবেশী দেশগুলো সুস্থ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাক। জনগণের মতামত যাতে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটিই ভারতের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, আমি নিশ্চিত, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফলাফল যা–ই আসুক না কেন, তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ব দৃষ্টিভঙ্গির হবে। আশা করি, পরিস্থিতির উন্নতি হবে ।










