বাগেরহাটের রামপালে আলমগীর হোসেন নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে স্বামী-স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত দায়রা ও জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক তপন রায় এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও স্ত্রী পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জগীহদা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম মিয়া (২৮) ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম (২৪)।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পারগোবিন্দপুর গ্রামের গনি শেখের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম। পূর্বপরিচিত আলমগীর শেখ নামে এক যুবক সিরাজুলের অনুপস্থিতে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি সাবিনা বেগম স্বামী সিরাজুলকে অবহিত করেন। পরে তারা দুজন কৌশলে আলমগীরকে ডেকে এনে ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখেন। এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী মালিডাঙ্গা গ্রামের নিহত আলমগীরের বাবা মোশারেফ হোসেন বাদী হয়ে রামপাল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পরের বছরের ২৪ মার্চ রামপাল থানার এসআই ইমারত শেখ হত্যা মামলায় সিরাজুল ইসলাম মিয়া ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। বিচারিক আদালত মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল দুপুরে হত্যা মামলায় স্বামী ও স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।










