আহমেদাবাদে ৫ অক্টোবর উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও কলকাতায় বৈশ্বিক আসরের ম্যাচ গড়াবে আজই প্রথম। এ ম্যাচে আবার থাকছে এপার বাংলা! ইডেন গার্ডেনসে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস। সাংস্কৃতিক যোগ আর ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার সমর্থক যাচ্ছে কলকাতায়। তারা আজ ইডেনে নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস হবে জিততে মরিয়া সাকিব-মুশফিকদের জন্য। ম্যাচটি শুরু হবে বেলা আড়াইটায়।
কঠিন এক পরিস্থিতিতে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে কলকাতায় পৌঁছেছে টাইগাররা। মাহমুদউল্লাহ সেঞ্চুরি করে পরাজয়ের ব্যবধান কমালেও দলের অন্য কেউই তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। আর শেষ ১০ ওভারে ১৪৪ রান তুলে বোলিংয়ে বাংলাদেশের দুর্বলতাও দেখিয়ে দিয়েছে প্রোটিয়ারা। পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরে বসা সাকিব আল হাসানদের পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে। আর ভুলের কোনো সুযোগ নেই। পরের সব ম্যাচ জিতলেও সেমিফাইনাল নিশ্চিত নয়।
ধর্মশালায় আফগানিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু সাকিবদের। যদিও এরপর তারা টানা হেরেছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। ডাচদের পর তারা খেলবে পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
ডাচরাও আশাহীন। ঝুলিতে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের একেবারে তলানিতে দলটি। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা স্কট এডওয়ার্ডসের দল সংবাদ শিরোনাম হয় তৃতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে। চলতি আসরের মহাঅঘটন। গত বছর টি২০ বিশ্বকাপের পর এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ডাচদের কাছে নাকাল হলো উড়তে থাকা প্রোটিয়ারা।
এরপর আবার হারের বৃত্তে ডাচরা। শ্রীলংকার কাছে লড়াই করে পাঁচ উইকেটে হারলেও দিল্লিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় লজ্জায় পড়েন এডওয়ার্ডস, ফন ডার মারউইরা। ৩৯৯ রান তোলা অজিরা তাদের মাত্র ৯০ রানে অলআউট করে রেকর্ড ৩০৯ রানের বড় জয় তুলে নেয়।
এ ট্রমা নিয়েই আজ বাংলাদেশের মুখোমুখি ইউরোপের দেশটি। ডাচরা অবশ্য বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের শিকার দক্ষিণ আফ্রিকা। কাজেই সাকিবদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
কাঁধের হালকা চোট কাটিয়ে পরিপূর্ণ ফিট হয়ে আজ একাদশে ফিরতে পারেন পেস বোলার তাসকিন আহমেদ। ৬ নম্বর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিফল হওয়ায় আজ দলে ফিরবেন ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়।
বাংলাদেশ টেবিলের ৮ নম্বরে অবস্থান করলেও তাসকিন মনে করেন না, তাদের বিশ্বকাপ এখনই শেষ হয়ে গেছে। ডাচ ম্যাচ সামনে রেখে গতকাল তিনি বলেন, ‘এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এখনো চার ম্যাচ বাকি। আমরা যদি এ ম্যাচগুলো জিতি, তবে যেকোনো কিছু হতে পারে। কারণ তখন নিট রান রেট একটা ইস্যু হবে। কাজেই আমরা যদি চারটি ম্যাচ জিতি, তখন ভিন্ন একটি গল্প হবে। যদিও এ মুহূর্তে আমরা ম্যাচ-বাই-ম্যাচ এগোতে চাই।’
দলের সমালোচনা নিয়ে অভিমান করে এ পেস তারকা বলেন, ‘যখন খারাপ হয়, এ ১৫ জনেরই সব নিতে হয়। তো ওটা আমরা নিচ্ছি, সব চাপ নিচ্ছি। আবার যখন ভালো সময় আসবে, সবাই মিলে উদযাপন করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আসলে আমাদের ব্যাটিং-বোলিং ভালো হয়নি। আশা করছি, কালকে আমাদের সেরাটা দিয়ে ভুলগুলো পুষিয়ে দেব। এখন জেতার বিকল্প নেই। যেগুলো ভালো হয়নি, সেখানে যদি ১০-১৫ শতাংশও উন্নতি করতে পারি, তাহলে জেতার সুযোগ আসবে।’
বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে যেমন ছন্দ নেই, তেমনি বিতর্কও নিত্যসঙ্গী। বিশ্বকাপের মধ্যেই গত বুধবার মুম্বাই থেকে কলকাতায় না এসে ঢাকার বিমান ধরেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। জানা গেছে, ‘ব্যক্তিগত প্রয়োজন’-এর কথা বলে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের কাছ থেকে দুদিন ছুটি নেন সাকিব। যদিও বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানে না।
ঢাকায় নেমে বুধবার সরাসরি মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে চলে যান সাকিব। সেখানে তিনি শৈশবের কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিমের তত্ত্বাবধানে ৩ ঘণ্টা নেটে ব্যাটিং করেন। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ফ্লাইটে তিনি কলকাতা ফিরে যান। গতকাল দলের সঙ্গে অনুশীলন করেন।
সাকিবের এ ঢাকা সফর বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে দল যখন খারাপ করছে তখন এভাবে ব্যক্তিগত সফরকে কেউই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। অবশ্য সাকিব নিজেও ফর্মে নেই। গত বিশ্বকাপে ৬০৬ রান করা এ তারকা এবার চার ইনিংসে করেছেন ৫৬ রান। বল হাতে নিয়েছেন ছয় উইকেট। কোচ ফাহিমের কাছ থেকে ব্যাটিংয়ের টিপস নিতেই নাকি ঢাকায় আসা তার। দেখা যাক, শৈশবের কোচের কাছ থেকে নেয়া টোটকা আজ কতটা সাহায্য করে সাকিবকে।
ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত দুবার দেখা দুই দলের এবং সর্বশেষটি ২০১১ সালের বিশ্বকাপে। চট্টগ্রামে সেই ম্যাচে ৬ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। ২০১০ সালে গ্লাসগোয় প্রথম দেখায় ডাচরা জিতেছিল একই ব্যবধানে। এছাড়া টি২০-তে চারবারের লড়াইয়ে ৩-১-এ এগিয়ে বাংলাদেশ।
কলকাতায় এবার একটি সেমিফাইনালসহ বিশ্বকাপের মোট পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার দুটিই বাংলাদেশের।










