বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় গভীর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের মেসে হামলার অভিযোগ উঠেছে রূপাতলীর বাসস্ট্যান্ডের পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হামলায় ২০ জনের মতো আহত হন। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে রূপাতলী হাউজিং এলাকার ২৩ নং রোডের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেসে এ ঘটনা ঘটে।
এ হামলার ঘটনায় গতকাল সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ শুরু করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কুয়াকাটা এক্সপ্রেস নামে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও পুলিশ সদস্যরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের নুরুল্লাহ সিদ্দিকী, রসায়ন বিভাগের এসএম সোহানুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আহসানুজ্জামান, গণিত বিভাগের ফজলুল হক রাজীব, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আলীম সালেহী, বোটানি ও ক্রপ সায়েন্সের আলী হাসান, বাংলা বিভাগের মো. রাজন হোসেন এবং মার্কেটিং বিভাগের মাহবুবুর রহমান, মাহাদী হাসান ইমন, মিরাজ হাওলাদার ও সজীব শেখসহ ১৩ জন।
এদিকে ভোর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আবারো অবরোধ করায় বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা রুটের দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী বাসসহ সব ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত ও লাঞ্ছিত করার পর হামলাকারী পরিবহন শ্রমিকের বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরই জের ধরে সড়ক অবরোধের সময় নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান তমালের মেসে গভীর রাতে হামলা চালান পরিবহন শ্রমিকরা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে পার্শ্ববর্তী মেসের শিক্ষার্থীরা তমালকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ১৩ জনই সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।










