অনশন ভাঙলেও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল ক্যাম্পাসজুড়ে চালানো হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সন্ধ্যায় বসেছিল প্রতিবাদী গান ও আবৃত্তির আসর। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত টং দোকান স্থাপনে কাজও চলেছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এ ক্যাম্পাসে ২০ থেকে ৩০ বছর সময় ধরে চলা টংগুলো দায়িত্ব নেয়ার পর অপসারণ করেন বর্তমান উপাচার্য, যা এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে এক ধরনের অমানবিক আচরণ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়েন। এছাড়া আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা খাবার খেতে পারেন এমন সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে প্রথমে চাষাভুষার টং নামে একটি অস্থায়ী টং চালু করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিভিন্ন স্থানে আরো চারটি টং স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এগুলোর নামেও আনা হয়েছে ভিন্নতা। দুটি টংয়ের নাম রাখা হয়েছে ওরা ২৮ জন ও অর্বাচীন। এছাড়া বাঁশবাগান ও লিচুতলা নামেও দুটি দোকান স্থাপন করা হচ্ছে।
প্রথমদিকে শিক্ষার্থীরাই এগুলো স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে পরিচালনা করবেন। পরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পরিচালনার দায়িত্ব দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
গতকাল দিনভর ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু এলাকার ময়লা পরিষ্কার করেন তারা। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কোনো সহিংসতা নয়, বরং তাদের এ আন্দোলন হবে অহিংস।
গত ১৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কয়েকশ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি তাদের ওপর হামলা চালায় একটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরদিন বিকালে শিক্ষার্থীরা আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ও রাবার বুলেট ছোড়ে। সেদিন রাতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে এ নির্দেশ উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ও বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
১৯ জানুয়ারি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। পরে তাদের সঙ্গে আরো চারজন যোগ দেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়, বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কিছুটা সুস্থ হলেই তারা আবার এসে অনশনে যোগ দেন। কয়েক দফায় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে রাজি হননি শিক্ষার্থীরা। পরে গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষক, বরেণ্য লেখক শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী ড. ইয়ামিন হকের প্রচেষ্টায় ১৬২ ঘণ্টার অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা।










