লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে উত্তেজিত জনতা। এতে বাধা দেয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) গাড়ি বহর। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ৩৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম নন্দনী রায় (৭)। সে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকার নলিনী চন্দ্র বর্মণের কন্যা। গত সোমবার বিকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। গতকাল সকালে বাড়ির পাশের একটি ভূট্টাক্ষেতে বস্তাবন্দী ও মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা প্রতিবেশী বিধান চন্দ্রের (২৩) বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে কয়েকটি ঘর ও মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বহনকারী গাড়িসহ পুলিশের কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। স্থানীয় সাংবাদিকদেরও ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেয়া হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
পরে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এরপর আগুনে পোড়া বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা অভিযুক্তের স্বজনদের উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বণিক বার্তাকে জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার প্রেক্ষিতে একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বণিক বার্তাকে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক পক্ষগুলো কাজ করছে। ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।










