মাস্টারসহ পয়েন্টসম্যানকে অন্যত্র বদলি করে দিনাজপুরের হিলি রেলওয়ে স্টেশন ক্লোজিং ডাউন বা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই গতকাল সকাল থেকে এ রেলস্টেশনের কার্যক্রম ক্লোজিং ডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে এ পথ দিয়ে চলাচলকারী সব ট্রেন প্লাটফর্মের ১নং লাইনের পরিবর্তে ২নং লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এতে চরম ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। লাইন থেকে অনেক উঁচু হওয়ায় ট্রেনে উঠতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বয়স্ক মানুষসহ নারী যাত্রীদের।

হিলি রেলস্টেশনের কার্যক্রম ক্লোজিং ডাউন ঘোষণা করায় এ স্টেশনের স্টপেজ থাকা ট্রেনগুলো চালকের নিজ ইচ্ছায় ২নং লাইনে দাঁড়াচ্ছে, যাত্রী নিয়ে আবারো চলে যাচ্ছে, যা পার্শ্ববর্তী বিরামপুর ও পাঁচবিবি রেলস্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে করে কোনো ধরনের সিগন্যাল ছাড়াই চালকের ইচ্ছায় ট্রেন চলাচলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে স্টেশনটির কার্যক্রম সচল করাসহ প্লাটফর্মে ট্রেন থামানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মেয়েকে ট্রেনে তুলে দিতে আসা স্কুলশিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, আমার মেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। আজ সে যাবে যার কারণে তাকে হিলি রেলস্টেশনে ট্রেনে তুলে দিতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি ট্রেন প্লাটফর্মে না দাঁড়িয়ে ২নং লাইনে দাঁড়াচ্ছে। একে তো লাইন থেকে অনেক উঁচু হওয়ায় ট্রেনে ওঠায় মুশকিল। তারপর মেয়েদের তো সমস্যা আরো বেশি। তার পরও কষ্ট করে তাকে কোনোরকম করে তুলে দিলাম। কিন্তু যারা বয়স্ক মানুষ তারা তো ট্রেনে উঠতেই পারবে না। এর পরে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

হিলি রেলস্টেশনের টিকিট মাস্টার নয়ন বাবু বলেন, আমাদের হিলি স্টেশনে দুজন পয়েন্টসম্যান ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গতকাল তাদের একজনকে জয়পুরহাটে ও আরেকজনকে নাটোরে বদলি করা হয়েছে। আর মাস্টারকে চিলাহাটি বদলি করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যার কারণে হিলিতে কোনো মাস্টার নেই, কোনো পয়েন্টসম্যান নেই। আর পয়েন্টসম্যান ছাড়া স্টেশন চালানো তো সম্ভব নয়। কারণ তারাই তো লাইন পরিবর্তনের কাজটি করে থাকেন। ফলে স্টেশনটি ক্লোজিং ডাউন করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তবে স্টেশনের টিকিট বিক্রিসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলবে। স্টপেজ করা ট্রেনগুলো প্লাটফর্মের ১নং লাইনে না দাঁড়িয়ে ২নং লাইনে দাঁড়াবে, যা পার্শ্ববর্তী দুই স্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এ নির্দেশনা পেয়েছি আমরা। এতে করে এই পথ দিয়ে চলাচলরত ট্রেনের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। কারণ ১নং লাইন থেকে ২ নম্বর লাইনে ট্রেনে ওঠা কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে যারা বয়স্ক মানুষ, তারা উঠতে পারবে না।