রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলীর বাড়িতে নগদ ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা পেয়েছে পুলিশ। মেয়র পলাতক থাকায় এ টাকার উৎস জানতে পারেনি পুলিশ।

গতকাল ভোররাত ৩টার দিকে পৌর এলাকার পিয়াদাপাড়া এলাকায় মেয়রের বাসায় এ অভিযান চালায় বাঘা থানা পুলিশ। এ সময় চারটি ম্যাগজিন ও ১৭ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল, পিস্তলের গুলির চারটি খোসা, একটি ওয়ান শুটার গান, একটি দেশী বন্দুক, একটি এয়ার রাইফেল এবং শটগানের ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। এসব আগ্নেয়াস্ত্রেরও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি মেয়রের স্বজনরা।

ওই অভিযানে ১০ গ্রাম গাঁজা, সাত পুরিয়া হেরোইন ও ২০ পিস ইয়াবাও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মেয়রের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৪০), দুই ভাতিজা সোহান (২৫) ও শান্তকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়েছে। আলাদা মামলায় তাদের দুপুরের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত জানান জেলার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার)। তিনি বলেন, মেয়র ও তার ছেলের কক্ষ থেকে মাদক পাওয়া গেছে। মেয়র, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে মাদক আইনে মামলা হবে। আর আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গেছে মেয়রের কক্ষেই। সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। আমরা ধরেই নিচ্ছি, অস্ত্রের বিষয়ে তার স্ত্রী জানতেন। এজন্য অস্ত্র আইনের মামলায় মেয়র ও তার স্ত্রী আসামি হচ্ছেন।

এছাড়া তার কক্ষে যে নগদ টাকা ও সই করা চেক পাওয়া গেছে, তার উৎস ও গন্তব্য বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি মেয়রের স্বজনরা। এজন্য পুরো টাকা জব্দ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে আইনত যা করা দরকার আমরা তা করব।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে পৌর এলাকার জয়বাংলা মোড়ে বাড়ি লাগোয়া নিজের ওষুধের ফার্মেসিতে ছিলেন মনোয়ার হোসেন মজনু। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক তিনি। ওই সময় মদ্যপ হয়ে দলবল নিয়ে হামলা চালান মেয়র মুক্তার আলী। ভয়ে ওই শিক্ষক বাড়ির ভেতরে চলে যান। পিছু নিয়ে মেয়র ও তার সহযোগীরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে মজনুকে মারপিট শুরু করেন। মজনুকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন তার ছেলে ও স্ত্রী।

এ ঘটনায় মধ্যরাতে থানায় অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। এতে মেয়রসহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরো তিন-চারজনকে। সে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেয়রের বাড়িতে পুলিশ অভিযানে যায়। কিন্তু তার আগেই পালিয়ে যান মেয়র মুক্তার আলী। পরে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সনাতন চক্রবর্তী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতেখায়ের আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (গোদাগাড়ী সার্কেল) আসাদুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও চারঘাট সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত) রুবেল আহমেদ ও বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম।