তাদের মতে, জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগই একটি সুস্থ, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬-এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ‘হেলদি বাংলাদেশ ২০৪১’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ড. তৌফিক জোয়ারদার।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, ড. শামারুহ মির্জা, সৈয়দ এস কায়সার কবির, ড. কাজী আহমেদ জাকি এবং ড. সৈয়দ মাসুদ আহমেদ।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার গড় বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ক্যান্সারের প্রকোপও বাড়বে। তাই ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

ড. শামারুহ মির্জা বলেন, ‘সুস্থ বার্ধক্য কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও সুস্থ বার্ধক্যে বিনিয়োগ ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নত করবে।’ একই সঙ্গে তিনি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাথমিক স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্য শিক্ষা, টিকাদান এবং ডিমেনশিয়া ও ক্যান্সারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ কার্যক্রমে আরো সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

সৈয়দ এস কায়সার কবির বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ নয়, এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে গুরুতর অসুস্থতার কারণে কোনো পরিবার আর্থিক সংকটে না পড়ে।’

ড. কাজী আহমেদ জাকি বলেন, ‘সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্যায়নির্ভর ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ এবং শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা ভবিষ্যতে রোগের আগাম সতর্কতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

ড. সৈয়দ মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং রোগের ধরনে বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা ও অসংক্রামক রোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বিদ্যমান। এ পরিস্থিতিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অর্থায়নের ঘাটতি দূর করা এবং শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’