যশোর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে
(যবিপ্রবি) ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা
চাঁদার দাবিতে ইসমাইল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থীকে ৫
ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মশিয়ুর রহমান হলের ৫২৮ নম্বর কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার
করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ইসমাইল ময়মনসিংহ জেলার বলারামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি যবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি
বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। অভিযুক্ত দুজন যবিপ্রবির কম্পিউটার ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি
বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সালমান এম রহমান ও
একই বিভাগের সদ্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সোয়েব আলী। শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় তাদের দুজনকে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন, মামলা ও ভিকটিমের নিরাপত্তা
নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্ত দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্টকে থানায় মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রভোস্ট বডি সাতদিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। এছাড়া নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রভোস্ট ও প্রক্টরিয়াল বডিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেন জানান, যশোর শহরের পালবাড়ী ভাস্কর্য মোড়ে একটি ছাত্রাবাসে থাকেন। বিভিন্ন সময় তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোয়েব আলী ও সালমান এম রহমান। ইসমাইল চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে রোববার দুপুরে ক্লাস চলাকালীন সোয়েব ও সালমান তাকে ডেকে হলে নিয়ে যায়। এরপর বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইসমাইলকে বেঁধে রেখে রড, পাইপ আর বেল্ট দিয়ে অমানসিক নির্যাতন করে। পরে সন্ধ্যায় সহপাঠীরা উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিপিটি বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী আল জুবায়ের রনি বলেন, ‘ইসমাইল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। রোববার দুপুরের পর থেকে ইসমাইলকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি তার ফোনও বন্ধ ছিল। সে রোজা ছিল, ইফতারের সময় ইসমাইলকে না পাওয়ায় অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। তার সহপাঠীরা জানান, হলের সালমান আর সোহেব ক্লাস চলাকালীন ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তারপর আর খোঁজ নেই ইসমাইলের। পরে আমরা সবাই হলে গিয়ে খুঁজে দেখি ৫২৮ নম্বর কক্ষে অসচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।’
তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি সোহেল রানার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এদিকে নির্যাতনকারী ছাত্রদের বিচার দাবিতে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শহীদ মশিয়ুর রহমান হলের প্রভোস্ট আশরাফুজ্জামান জাহিদ বলেন, ‘অভিযুক্ত সোয়েব আলী ও সালমান এম রহমানকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে আমরা নির্যাতনের কক্ষটি সিলগালা করে দিয়েছি।’










