কৃষি রাসায়নিক শিল্পকে আমদানিনির্ভরতা থেকে বের করে রফতানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্প যেভাবে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে, কৃষি রাসায়নিক শিল্পেরও একইভাবে রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য স্থানীয় উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণ এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

বামার ২০২৫-২৭ মেয়াদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সংগঠনের প্রথম সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সম্ভাবনাময় রফতানিমুখী শিল্প খাতগুলোকে তৈরি পোশাকশিল্পের মতো কাস্টমস বন্ড সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে রফতানি বিষয়ে একটি গবেষণা সেল গঠনের সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বামা সভাপতি বলেন, দেশের কৃষি রাসায়নিক শিল্প শুধু কৃষকের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের খাত নয়; ভবিষ্যতে এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও শিল্পের বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্প যদি বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রফতানি করতে পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কৃষি রাসায়নিক উৎপাদনের সক্ষমতাও বাংলাদেশ অর্জন করতে পারে।

বামার সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রফতানির জন্য পণ্যের মান, আন্তর্জাতিক সনদ, গবেষণা ও উন্নয়ন, উৎপাদন প্রযুক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে রফতানিমুখী শিল্পের জন্য যে ধরনের নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা রয়েছে, কৃষি রাসায়নিক শিল্পের ক্ষেত্রেও সেসব সুবিধা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বামার পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের কৃষি রাসায়নিকের বড় অংশ এখনো আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমার পাশাপাশি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং কৃষি উপকরণ সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসবে।

সভায় বক্তারা বলেন, কৃষি রাসায়নিক শিল্পের টেকসই বিকাশে নীতিমালায় সামঞ্জস্য, স্থানীয় উৎপাদনে প্রণোদনা, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং রফতানি সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের কৃষি রাসায়নিক পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বামার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, সরকারি সংস্থা, শিল্প উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগে কৃষি রাসায়নিক খাত শক্তিশালী দেশীয় শিল্পে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নতুন রফতানি পণ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।