গত বিশ্বকাপে যেখানে শেষ করেছেন সেখান থেকেই এবার শুরু করলেন কেন উইলিয়ামসন। ২০১৯ বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট উইলিয়ামসন চোটের কারণে প্রায় সাড়ে সাত মাস পর ফিরলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। চোটজনিত কারণে এবারের আসরে দুই ম্যাচ সাইডবেঞ্চে থাকার পর অবশেষে গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামেন। ফিরেই কিউইদের জয়ে রাখলেন মূল্যবান অবদান। চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে উইলিয়ামসনের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বিশ্বকাপে বর্তমান রানার্সআপ দলটি। 

এটা চলতি আসরে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় হার, নিউজিল্যান্ডের হ্যাটট্রিক জয়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের কাছে ধর্মশালায় হারের পর এবার চেন্নাইয়ে বিশ্বকাপের রানার্সআপরাও বড় হারের লজ্জা দিল সাকিব আল হাসানের দলকে।  

ইংল্যান্ডকে উদ্বোধনী ম্যাচে গুঁড়িয়ে দেয়ার পর নেদারল্যান্ডসকেও বড় ব্যবধানে হারায় নিউজিল্যান্ড। উড়তে থাকা ‘কিউই’দের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার মতো পুঁজি পায়নি বাংলাদেশের বোলাররা। ফলে ২৪৬ রানের টার্গেটটা ৮ উইকেট ও ৪৩ বল হাতে রেখেই টপকে যায় তারা। ড্যারিল মিচেল ৬৭ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৯ ও উইলিয়ামসন ১০৭ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৭৮ রান করেন। এছাড়া ডেভন কনওয়ের ব্যাট থেকে আসে ৫৯ বলে ৪৫ রান। 

তৃতীয় ওভারে রাচিন রবীন্দ্রকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে কনওয়েকে নিয়ে ৮০ ও তৃতীয় উইকেটে মিচেলকে নিয়ে ১০৮ রান যোগ করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন উইলিয়ামসন। এরপর ২৭ বলে ৪৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে কিউইদের জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। 

চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুর্ভাবনার নাম টপ অর্ডার ব্যাটিং। গতকাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ব্যর্থ হয়। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশ তুলতে পেরেছে ২ উইকেটে ৪৬ রান। এরপর মেহেদী হাসান (৪০), মুশফিকুর রহিম (৬৬) ও মাহমুদউল্লাহর (৪১*) ব্যাটে ভর করে ৯ উইকেটে ২৪৫ রান তুলতে সমর্থ হয় টাইগাররা। দ্বিতীয় পাওয়ার প্লের ৩০ ওভার থেকে এসেছে ৫ উইকেটে ১৪৩ রান। আর শেষ ১০ ওভার থেকে আসে ৫৬/২।

চেন্নাইয়ের ধীরগতির উইকেটে স্পিন নয়, কিউই গতি বলেই ধরাশায়ী বাংলাদেশ! লোকি ফার্গুসন (৩/৪৯), ট্রেন্ট বোল্ট (২/৪৫), ম্যাট হেনরির (২/৫৮) গতির সামনে অসহায় ছিল বাংলাদেশ। কিউই স্পিনারদের শিকার যেখানে মাত্র ২ উইকেট, সেখানে তিন পেসার সম্মিলিতভাবে নেন ৭ উইকেট।

লিটন দাস ইনিংসের প্রথম বলেই ট্রেন্ট বোল্টের ইনসুইংয়ে ফাইন লেগে ম্যাট হেনরিকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৪০ রান যোগ করে বিপর্যয় সামাল দেন। তামিম ব্যক্তিগত ১৬ রানে পেসম্যান ফার্গুসনের বলে স্কয়ার লেগে ডেভন কনওয়েকে ক্যাচ দিলে এই জুটি ভাঙে।

মিরাজ খেলছিলেন সহজাত ক্রিকেট। তিনে নামা এই ব্যাটার ৪৬ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩০ রান করে ফার্গুসনের শিকার হন (৫৬/৩)। দলের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠা নাজমুল হোসেন শান্ত ৮ বলে ৭ রান করে স্পিনার গ্লেন ফিলিপসের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন (৫৬/৪)।

পঞ্চম উইকেটে সাকিব-মুশফিক ১০৮ বলে ৯৬ রান যোগ করে দলকে আশা দেখান। যদিও ফার্গুসনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে জীবন দেন সাকিব। ৫১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। 

দল হারলেও গতকাল বিশ্বকাপে ১ হাজার ২০০ রানের গর্বিত ক্লাবে নাম লেখান সাকিব। তিনি আছেন ষষ্ঠ স্থানে। গতকাল ১ হাজার ১৬১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে টপকে গেছেন সনাথ জয়সুরিয়া (৩৮ ম্যাচে ১ হাজার ১৬৫), বিরাট কোহলি (২৮ ম্যাচে ১ হাজার ১৭০), ক্রিস গেইলকে (৩৫ ম্যাচে ১ হাজার ১৮৬)। 

ধর্মশালায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫১ রানের ইনিংস খেলা মুশফিক গতকাল ৫২ বলে ফিফটি তুলে নেন। ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৭৫ বলে ৬৬ রান করেন তিনি ৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে। আর ৪ রান করলেই সাকিবের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপে হাজার রান পূর্ণ হবে মুশফিকের। 

মেহেদী হাসানকে বসিয়ে কাল মাহমুদউল্লাহকে ফেরানো হয় একাদশে। তিনি আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন দারুণভাবে। টেল-এন্ডারদের নিয়ে দলের সংগ্রহটা ২৪৫ পর্যন্ত টেনে নেনে তিনিই। এ পথে ৪৯ বলে দুই চার ও দুই ছক্কায় করেন ৪১ রান। যদিও দলে হেরে যাওয়ায় বিফলেই যায় মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকের লড়াই। 

হার শেষে বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘গত ম্যাচের মতোই আমরা ভালো ব্যাট করিনি। প্রথম ১৫ ওভারে আমাদের উন্নতি করতে হবে। টপ অর্ডারকে আরো দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে। এটা ভালো উইকেট, কাজেই আমাদের আরো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যাট করা উচিত ছিল।’

১৯ অক্টোবর পুনেতে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৪৫/৯ (মুশফিক ৬৬, মাহমুদউল্লাহ ৪১, সাকিব ৪০, মিরাজ ৩০; ফার্গুসন ৩/৪৯, বোল্ট ২/৪৫, হেনরি ২/৫৮)। নিউজিল্যান্ড: ৪২.৫ ওভারে ২৪৮/২ (মিচেল ৮৯*, উইলিয়ামসন ৭৮, কনওয়ে ৪৫, ফিলিপস ১৬*; মুস্তাফিজ ১/৩৬, সাকিব ১/৫৪)।

 ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী। 

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: লোকি ফার্গুসন (নিউজিল্যান্ড)।