অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। ছয় দফা দাবিতে দুই শতাধিক জ্বালানি তেল বহনকারী ট্যাংকলরি নিয়ে নগরীতে বিক্ষোভ
করেছেন তারা। এতে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত তেল সংকট নিরসন না করলে আরো কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবেন তারা। গতকাল সিলেট নগরীর হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে ট্যাংকলরি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সিলেটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। দিন দিন এ সংকট তীব্র হচ্ছে। অনেক পেট্রলপাম্প তেল সরবরাহ করতে পারছে না। আবার কোনো কোনো পাম্পে পেট্রল থাকলে অকটেন নেই কিংবা কারো নেই ডিজেল। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে সিলেটে প্রতিদিন জ্বালানি তেলের চাহিদা দেড় লাখ লিটারেরও বেশি। অথচ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬০ হাজার লিটার। আর এসব জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম থেকে আসে রেলের ওয়াগনের মাধ্যমে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল। সিলেটের পেট্রলপাম্পগুলো চলতি মৌসুমে চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এক সপ্তাহের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কোনো সমাধান হয়নি।
এদিকে জ্বালানি খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে সিলেট বিভাগীয় পেট্রলপাম্প, সিএনজি, এলপিজি, ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ গঠন করা হয়।
এ সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে, দাবিগুলো হলো ওভারলোডের অজুহাতে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ করা, অবিলম্বে সিলেট বিভাগের প্রতিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, সিলেট বিভাগে পেট্রল, ডিজেল, অকটেন সরবরাহ নিশ্চিত করা, সিলেটের প্রতিটি গ্যাসফিল্ড থেকে ট্যাংকলরির ডেসপাস চালু করা, অবিলম্বে সিলেট বিভাগের প্রতিটি গ্যাসফিল্ড আগের মতো চালু করা এবং জ্বালানি ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা।
এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় পেট্রলপাম্প, সিএনজি, এলপিজি, ট্যাংকলরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সিরাজুল হোসেন আহমদ আলমগীর জানান, সিলেটের সিএনজি ও এলপিজি পাম্পের মালিকরা দীর্ঘদিন এসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছেন। দেশের অন্য কোনো জেলায় এমন সমস্যা নেই। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা না হলে সংগঠনের আওতায় বিভাগের প্রায় ২০০টি পাম্পের মালিক-শ্রমিকরা আরো কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।










