ইলিশ শিকারে জীবনের ঝুঁকি ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সাগরে ছুটছেন বাগেরহাটের জেলেরা। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল ভোরে সাগরে রওনা শুরু করেছেন জেলেরা। বাগেরহাট শহরের কেবি বাজার, কচুয়ার বগা, শরণখোলার রায়েন্দা, রামপাল ও মোংলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩২ ট্রলারযোগে জেলেরা রওনা দিয়েছেন। সরকারি হিসাবে অন্তত ১৩ হাজার জেলে বাগেরহাট জেলা থেকে মৎস্য আহরণে সাগরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা এলাকার জেলে রহিম উদ্দিন বলেন, বাপ-দাদার পেশা হিসেবে সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে এ বছরও যাচ্ছি ইলিশ শিকারে। এভাবেই জীবন কেটে যায় আমাদের।
একই এলাকার জেলে ওসমান শিকদার বলেন, অবরোধের কারণে ৬৫ দিন সাগরে যেতে পারিনি। অবরোধ শেষ হয়েছে, এখন যাচ্ছি। আশা করি এবার মাছ ভালো পাব।
রামপাল উপজেলার হুড়কা এলাকার ছগির উদ্দিন বলেন, অবরোধের সময় খুব কষ্টে দিন কাটে আমাদের। ধারদেনা করে পেট চালাতে হয়। এর পাশাপাশি অবরোধের সময় জালসহ অন্য সরঞ্জামাদি প্রস্তুতের জন্যও টাকা ধার করতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরে লোকালয়ে এনে বিক্রি করতে হয় কম দামে। বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম রাসেল বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল ভোর থেকে জেলেরা সাগরে রওনা হয়েছেন। এবার সব মিলিয়ে ১২-১৩ হাজার জেলে সাগরে যাচ্ছেন। অবরোধ শেষে জেলেরা ভালো মাছ পাবেন বলে আশা করেন তিনি। মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশসহ সব প্রজাতির মাছ ধরার ওপর গত ১৯ মে মধ্যরাত থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।










