যশোরের
বেনাপোল কাস্টমস থেকে ১৯ কেজি স্বর্ণ
চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলা চার বছর পেরিয়ে গেলেও কেবল সাক্ষ্য গ্রহণেই থমকে আছে বিচারকাজ। মামলার ৩৪ সাক্ষীর মধ্যে
আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১০ জন। মামলাটি
দায়েরের চার বছরেও শেষ হয়নি বিচারকাজ। সাক্ষীরা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচার
থমকে আছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
মামলার সর্বশেষ তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি বলছে, লকারের দায়িত্বে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও বহিরাগতদের দিয়ে লকার দেখভাল করায় এ চুরি সংঘটিত হয়েছে। আসামিরা চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে দেয়ায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পাঁচ কাস্টমস কর্মকর্তাসহ সাতজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। তবে আসামিরা জামিনে রয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস ও সিআইডির চার্জশিটের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর টানা তিনদিন সরকারি ছুটি এবং ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে কাস্টমস বন্ধ ছিল। এ সুযোগে কাস্টম হাউজের পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলার গুদামের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে যায়। পরে ভল্টের তালা ভেঙে ১৯ কেজি ৩১৮ দশমিক ৩ গ্রাম স্বর্ণ চুরি করে। ভল্টের চাবি ছিল তৎকালীন ভল্ট ইনচার্জ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিবুলের কাছে। গুদামের অন্যান্য লকারে স্বর্ণ, ডলারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র থাকলেও সেগুলো চুরি হয়নি। ভল্ট ভাঙার সময় কাস্টম হাউজের সব সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। ১২ নভেম্বর সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে কাস্টম হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা এমদাদুল হক বাদী হয়ে চুরির মামলা করেন বেনাপোল পোর্ট থানায়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এম ইদ্রিস আলী জানান, আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণেই এ মামলার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। দ্রুতই বাকিদের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটি শেষ করা হবে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ‘সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণ চুরির সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। মামলা বিচারাধীন রয়েছে।’










