আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরো দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া, দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
বাংলাদেশে এখনও এমন বহু দেওয়ানি মামলা রয়েছে, যেগুলো অনেক পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলা বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সরকার বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর বিচারসেবা চালু এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ও জাইকাসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপ-মহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ শাফায়েত এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধ্যাপক ওয়াকাযোনো রেই।
তারা বাংলাদেশ ও জাপানের দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণ, তা নিরসনের কৌশল, বিচারপ্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির বিভিন্ন কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।
সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সেমিনারে আলোচিত অভিজ্ঞতা, সুপারিশ ও মতামত পর্যালোচনা করে দেওয়ানি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সেমিনারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।










