উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদে পদত্যাগ না করায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবার দানা বাঁধছে আন্দোলন। আজ বুধবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলে দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

এর আগে গতকাল রাতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে আলোর মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, অনশন ভাঙার ১৫ দিন পার হয়েছে। উপাচার্য এখনো স্বপদেই বহাল। কার্যালয়ে না গিয়ে বাসায় থেকেই দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। চলছে ভর্তি কার্যক্রমও। ক্লাস ছাড়া সব কার্যক্রমই স্বাভাবিক হয়েছে। এতদিন প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্য দিয়ে আন্দোলন চললেও আগামীতে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ এ বিষয়ে বলেন, অনশন ভাঙার ১৫ দিন পার হয়ে গেছে। এখনো সকল দাবি মেনে নেয়ার দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের ওপর করা দুটি বানোয়াট মামলা, তাদের ব্যক্তিগত নম্বর, বিকাশ, নগদ অ্যাকাউন্টসহ অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমগুলো বন্ধ করে দেয়ার পর দুই-একটি বাদে প্রায় সবগুলোই এখনো বন্ধ আছে।

রাজ আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের শরীরে লাঠি, বুলেট, বোমার সকল আঘাত, জখম, রক্ত তাদের মনে অক্ষয় শক্তির যোগান দিয়ে অঙ্গার হয়ে জ্বলছে। উপাচার্যের পতন না হলে এ অঙ্গার দাবানলে পরিণত হবে।

এদিকে বুধবার পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী সজল কুন্ডুর শরীর থেকে অস্ত্রোপাচার করে বুলেটের স্প্রিন্টার বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। ডান হাতে তার রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক স্প্রিন্টার। ৩-৪টি বের করতে পারলেও বাকীগুলো হাড্ডির কাছাকাছি থাকায় চিকিৎসকরা ঝুঁকি নেননি।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়গুলো এখন আমাদের হাতে নেই। এগুলো সরকারের হাতে চলে গেছে। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলেই একটি সিদ্ধান্ত আসবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকে বন্ধ করা হয়েছে। এখন ক্লাস শুরুর বিষয়ে উপাচার্যই বলতে পারবেন। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় একটা ক্রাইসিস মুহূর্ত দিয়ে যাচ্ছে তাই এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।