রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সুরেশ চন্দ্র চাকমা (৫৫) নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল ভোররাতে উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের বি ব্লক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বেলা ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরেশ চন্দ্র চাকমা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের নেতা ছিলেন। তিনি পাহাড়ের এ আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক গেরিলা সংগঠন শান্তি বাহিনীর সদস্য ছিলেন। নিরাপত্তার কারণে সুরেশ চাকমা নিয়মিত নিজের বাড়িতে রাত্রীযাপন করতেন না। ঘটনার আগের দিন রাতেও প্রতিবেশীর বাড়িতে রাত্রীযাপন করেছেন এবং সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শোনার পর মরদেহ উদ্ধারে বঙ্গলতলীর ঘটনাস্থলে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সেখান থেকে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বেলা ৩টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাঘাইছড়ি থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘চাকমা সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। তারা এসব ঘটনার পর মরদেহ দিতে চান না। এমনকি মৃত্যু সম্পর্কেও তথ্যও জানাতে চান না। আমরা এলাকার মাতব্বরদের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছি। আমরা ভিকটিমের পরিবারকে মামলা দায়েরের জন্য বলেছি।’

তবে এ প্রসঙ্গে জানতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের দায়িত্বশীল একাধিক নেতার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। কোনো বিবৃতি কিংবা নিজেদের বক্তব্য জানান দেয়নি সংগঠনটি।