আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে ২৪ ম্যাচ খেলে ১৫টি জয়ে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট পায় বাংলাদেশ। বড় বড় দলকে পেছনে ফেলায় বিশ্বকাপের মঞ্চেও দলটিকে ঘিরে উচ্চাশা ছিল সবার। যদিও নিজেদের সপ্তম আসরে জুটল শুধুই হতাশা। বিশ্বকাপের আগে দল ঘোষণা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক আর বিশৃঙ্খলার স্পষ্ট প্রভাব দেখা গেল লাল-সবুজদের মাঠের পারফরম্যান্সে। ফলও হলো যাচ্ছেতাই। রাউন্ড রবিন লিগে ৯ ম্যাচের মধ্যে ৭টিতেই হার। সর্বশেষ গতকাল পুনেতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। যদিও নিট রানরেটে বড় ক্ষতি না হওয়ায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার আশা বেঁচে থাকল টাইগারদের।

নিজেদের শেষ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৩০৭ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। যদিও এ রান দিয়ে আটকানো যায়নি অজিদের। মিচেল মার্শের বিস্ফোরক এক সেঞ্চুরিতে (১৩২ বলে ১৭৭ রান) ভর করে ৩২ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় দলটি। ১৭টি চার ও ৯টি ছক্কায় ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলেন রডনি মার্শপুত্র। এছাড়া সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ ৬৪ বলে ৬৩ ও ডেভিড ওয়ার্নার ৬১ বলে ৫৩ রান করে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয়ে অবদান রাখেন।

বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জয়ের পর টানা ছয় ম্যাচ হেরেছে। এরপর শ্রীলংকার বিপক্ষে জয় পেলেও সমাপ্তি ঘটল হারেই। অন্যদিকে, প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর টানা ৭ জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশেষ বার্তা দিয়ে রাখল প্যাট কামিন্সের দল। আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে এ দুটি দল। তার আগের দিন মুম্বাইতে প্রথম সেমিতে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদে ফাইনাল। পরের সবক’টি নকআউট ম্যাচই এখন দর্শক হয়ে দেখবেন মিরাজ-শান্তরা।

এদিকে, ৮ উইকেটে হারলেও নিট রানরেটে উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে এ মুহূর্তে টেবিলের আটে থাকা বাংলাদেশের নিট রানরেট (-)১.০৮৭। শ্রীলংকা (-)১.৪১৯ নিট রানরেট নিয়ে নয় নম্বরে ও ডাচরা (-)১.৬৩৫ নিট রানরেট নিয়ে টেবিলের তলানিতে। আজ বেঙ্গালুরুতে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ডাচরা কোনো অঘটন না ঘটালেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার টিকিট পাচ্ছে।  

গতকাল শেষ ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় ৭৯ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৭৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে তিনশ ছাড়ানো স্কোর এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৫, লিটন দাস ৩৬, তানজিদ হাসান তামিম ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৩২, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৯ ও মুশফিকুর রহিম ২১ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম জাম্পা ও শন অ্যাবোট দুটি করে উইকেট নেন। 

তানজিদ ও লিটন উদ্বোধনী জুটিতে ১১.২ ওভারে দলকে ৭৬ রান এনে দেন। দুজনই সমান ৩৬ রান করে কাছাকাছি সময়ে আউট হয়ে যান। এরপর শান্ত ও হৃদয় ৬৩ রানের জুটিতে দলের সংগ্রহ ১৭০ পর্যন্ত নিয়ে বিচ্ছিন্ন হন। শান্ত ৫৭ বলে ৪৫ রান করে রানআউট হন। 

চতুর্থ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও তাওহিদ হৃদয় দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলে ৪৪ রান যোগ করেন। মাহমুদউল্লাহ মারমুখী ব্যাটিংয়ে ২৮ বলে ৩২ রান করে শান্তর মতোই রানআউট হন। এরপর মুশফিককে নিয়ে ৩৭ ও মিরাজকে নিয়ে ৩৫ রানের দুটি জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ ২৮৬ পর্যন্ত নিয়ে আউট হয়ে যান তাওহিদ। পরে মিরাজ ও নাসুম আহমেদের (৭) চেষ্টায় দল তিনশ পেরোয়। যদিও তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ নিয়েও বড় হারে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো শান্ত-মিরাজদের। 

হার দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করার পর বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত দলনায়ক শান্তর হতাশা ঝরে পড়ল এভাবে, ‘বিশ্বকাপে একটি দল হিসেবে আমরা সেরাটা খেলতে পারিনি, বোলিং ও ব্যাটিং উভয় ক্ষেত্রেই। এখানে একক পারফরম্যান্সের বিষয় নয়। এখন দেশে ফিরে আমরা ৯টি ম্যাচ বিশ্লেষণ করে দেখব, কোথায় আমাদের উন্নতি করতে হবে।’

গতকাল ম্যাচের কোথায় ভুল ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় দুটি রানআউট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা ভালো সূচনা করলেও দুটি রানআউটের পর ছন্দ হারিয়ে ফেলি। ৩৪০-৩৫০ রান করলে ফল ভিন্ন হতে পারত। এছাড়া মাঝের ওভারগুলোয় বোলিংও ভালো হয়নি আমাদের, বিশেষ করে স্পিন।’ 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩০৬/৮ (তাওহিদ ৭৪, শান্ত ৪৫, লিটন ৩৬, তানজিদ ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৩২; জাম্পা ২/৩২, অ্যাবোট ২/৬১)। অস্ট্রেলিয়া: ৪৪.৪ ওভারে ৩০৭/২ (মার্শ ১৭৭*, স্মিথ ৬৩*, ওয়ার্নার ৫৩; তাসকিন ১/৬১, মুস্তাফিজুর ১/৭৬)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মিচেল মার্শ (অস্ট্রেলিয়া)।