রাজশাহীর কাটাখালীতে বাস, মাইক্রোবাস ও লেগুনার সংঘর্ষে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লেগে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ২টার দিকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কাটাখালীর কাপাশিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর। এছাড়া ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের মধ্যে ১১ জন প্রাণ হারান।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় আরো অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড় মজিদপুরের ফুল মিয়া (৩৫), তার স্ত্রী নাজমা খাতুন (২৭) ছেলে ফয়সাল আহমেদ (১৩) এবং দুই মেয়ে সামিয়া খাতুন (৮) ও সুমাইয়া খাতুন (৪), নিহত ফুলমিয়ার বন্ধু পীরগঞ্জের রাজারামপুর গ্রামের সালাহউদ্দিন (৩৮), তার স্ত্রী শামসুন্নাহার (৩২), ছেলে সাজিদ (৯) ও আঠারো মাসের শিশুকন্যা সাবা খাতুন, শামসুন্নাহারের বড় বোন কামারুন্নাহার (৩৬), ফুলমিয়ার আরেক বন্ধু পীরগঞ্জ সদরের তাজুল ইসলাম ভুট্টু, তার স্ত্রী মুক্তা খাতুন, ছেলে ইয়ামিন, একই উপজেলার দাঁড়িকাপাড়া গ্রামের মোখলেসুর রহমান এবং মাইক্রোবাস চালক হারুন মিয়া পচা। তারা সবাই মাইক্রোবাসটির আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। তারা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির যাত্রী ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ বলেন, দুপুরে রংপুর থেকে একটি হায়েস মাইক্রোবাস রাজশাহী আসছিল। পথে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কাটাখালী থানার সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি হিউম্যান হলারকে (লেগুনা) ধাক্কা দেয়। এ সময় মাইক্রোবাসটির গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে গাড়ির ভেতরেই ১১ জন মারা যান।
তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামকে প্রধান করে গতকাল বিকালে এ কমিটি গঠন করা হয়।
রাসিক মেয়রের শোক
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক শোকবার্তায় মেয়র নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
চার জেলায় সড়কে নিহত আরো ৫
সাতক্ষীরা থেকে বণিক বার্তা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার দেবহাটায় ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় সমিত রায় (৭০) নামের সাবেক এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৮টায় সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের গাজীরহাট বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সমিত রায় একই উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মৃত কালিপদ রায়ের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত শিক্ষক গাজীরহাট বাজারে কাজ শেষে সাইকেলে বাড়ির ফেরার পথে গাজীরহাট গরানবাড়িয়া মোড়ে পৌঁছলে একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নোয়াখালী থেকে বণিক বার্তা প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বড়পোল এলাকায় মাটিবাহী একটি ট্রাক্টরের চাপায় মো. রাব্বি (১১) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় চালক ও হেলপারসহ ট্রাক্টরটি আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। গতকাল সকাল ৯টায় চরএলাহী ইউনিয়নে ৭ নং ওয়ার্ড চরকলমি বড়পোল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি চরকলমি গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বণিক বার্তা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে পিকআপ ভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী আহাদ মিয়া (২৫) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের উরশীউড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহাদের মৃত্যু হয়। নিহত আহাদ জেলা শহরের সরকারপাড়ার আরফুজ মিয়ার ছেলে।
নরসিংদী থেকে বণিক বার্তা প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর রায়পুরায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে রাসেল আহম্মেদ (৩২) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলটির অপর আরোহী হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের কড়ইতলা রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল আহম্মেদ পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের বাবুনগর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি ভৈরব শহরের একটি সুপার মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
অন্যদিকে নরসিংদীর পলাশে ট্রাকচাপায় মোস্তফা কামাল (৪০) নামের একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরেক উপসহকারী কমিউনিটি অফিসার হারুন অর রশিদ (৪৫)। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পলাশের ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাগপাড়া প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোস্তফা কামাল টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার আনাহুলা এলাকার মৃত শুক্কুর মাহমুদের ছেলে। তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন।










