শীত মৌসুমে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে। মুসলিম স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শন দেখতে প্রতিদিনই অসংখ্য দেশী-বিদেশী দর্শনার্থী আসছেন বাগেরহাটের ষাটগম্বুজে। ছুটির দিনে দর্শনার্থীর আগমন ঘটে অনেক বেশি। শুক্রবার ও গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত এ স্থাপনায় দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় ছিল। প্রায় ৬৫০ বছর আগে নির্মিত মসজিদ, মসজিদ চত্বরে থাকা জাদুঘর, বিভিন্ন রাইডস, প্রশস্ত সড়ক, নানা জাতের ফুল এবং মসজিদের পশ্চিম পাশের বিশালাকৃতির ঘোড়াদিঘী দেখে মুগ্ধ সবাই। তবে সংখ্যা বেশি হওয়ায় দর্শনার্থী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষকে।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শীত আসার আগ মুহূর্ত থেকেই ষাটগম্বুজ মসজিদে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। শীতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচুর দর্শনার্থী আসেন এই স্থানে। এছাড়া সারা বছরই কমবেশি দর্শনার্থী ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে আসেন। চলতি বছর ১৯ আগস্ট থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮০ জন বিদেশীসহ এক লাখ ১০ হাজার ৫৩০ দর্শনার্থী
ষাটগম্বুজ ভ্রমণ করেছেন। এর মাধ্যমে ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৬০৫ টাকা রাজস্ব আয় করেছে সরকার। বিপুলসংখ্যক এ দর্শনার্থীর নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।
ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী কারিশা নাদিয়া পুনম বলেন, ষাটগম্বুজ মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যেই রয়েছে বাগেরহাট জাদুঘর। ফলে এখানে এলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখার পাশাপাশি বাগেরহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কেও জানা যায়। বাগেরহাট জাদুঘর ঘুরে খানজাহান আমলের কুমিরের চামড়া দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। সুযোগ পেলে আবারও আসতে চাই ষাটগম্বুজে।
টাঙ্গাইল জেলার আয়নাপুর এলাকা থেকে আসা রবিউল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বইয়ে ষাটগম্বুজ সম্পর্কে পড়েছি, টাকার নোটে এ মসজিদের ছবি দেখেছি। এখন সামনাসামনি দেখে খুব ভালো লাগছে। বইয়ে যেটা পড়েছি, সেই শিক্ষাটাকে ঝালাই করেও নিতে পারলাম।
ঢাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা ব্যবসায়ী খালিদ হোসেন বলেন, ষাটগম্বুজের আশপাশে উন্নতমানের কোনো আবাসিক হোটেল-মোটেল নেই। ভালোমানের খাবার হোটেলও নেই এখানে। সুপেয় পানিরও সংকট রয়েছে কমপ্লেক্সের মধ্যে। এসব সমাধান করতে পারলে আরো স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ানো যেত ষাটগম্বুজে।
মাওলানা ফারুক হোসাইন নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, ষাটগম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলী যে কত উঁচুমানের তা অভিজ্ঞ স্থাপত্যবিদ ছাড়া বোঝার উপায় নেই। আমরা চাই যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক মুসলিম ঐতিহ্যের ধারক-বাহক ষাটগম্বুজ মসজিদ।
ট্যুরিস্ট পুলিশ, বাগেরহাট জোনের উপপরিদর্শক ওয়ালিউর রহমান বলেন, বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থী যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কেউ যাতে কোনো রকম হয়রানির শিকার না হর সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক অবস্থানে।
বাগেরহাট জাদুঘরে কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের জনবল অনেক কম। দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে আমাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হয়। তার পরও আমরা সবসময় চেষ্টা করি দর্শনার্থীর সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।










