করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় যেন দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের শূন্যরেখা। পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার-পরিজন-সন্তান নিয়ে অনেকেই এসেছেন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে। আবার কেউবা ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে জড়ো হয়েছেন সীমান্ত এলাকায়।

মঙ্গলবার ঈদুল ফিতরের নামাজশেষে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেট এলাকায়। দূরদূরান্ত থেকে মিনি পিকআপ, প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাসযোগে আবার কেউবা ব্যাটারিচালিত ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি নিয়ে আবার কেউবা মোটরসাইকেল নিয়ে হিলি সীমান্ত পরিদর্শনে এসেছেন। তারা সবাই হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেট ও হিলি রেলস্টশন এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখছেন আবার অনেকে ছবি তুলছেন। ভারত অংশে অনেকেই ভিড় করছেন বাংলাদেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে।

রংপুর থেকে আসা নাজমুন নাহার বলেন, আমার ছোট দেবর ও জা রয়েছে ভারতে। তাদের সঙ্গে দেখা করতেই হিলি সীমান্তে এসেছি। এমনিতেই তাদের সঙ্গে দেখা হয় না, ফোনে কথাবার্তা হয়। কিন্তু সরাসরি তো দেখা হয় না। তাই দেখা করার জন্যই এসেছিলাম। কিন্তু বিজিবি কাছে যেতে না দেয়ায় দূর থেকেই তাদের সঙ্গে চোখের দেখা হলো ও ইশারার মাধ্যমে মনের ভাব আদান-প্রদান করা হলো। কাছে যাওয়ার সুযোগ দিলে খুব ভালো হতো। 

রংপুর থেকে আসা সোলায়মান হোসেন বলেন, আমার বাপচাচারা সাত ভাইয়ের মধ্যে আমার বাবা শুধু বাংলাদেশে, বাকিরা সবাই ভারতে থাকেন। এতে করে পরিবারের অনেক সদস্য যারা কিনা ভারতে বসবাস করেন তাদের সঙ্গে দেখা করতেই মূলত আমার হিলি সীমান্তে আসা। মেসেঞ্জারে বা হোয়াটসআপে তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ভাবছিলাম যে তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা হবে, সেজন্যই আসা। তাদের সঙ্গে দেখাও হয়েছে আমার। কিন্তু বিজিবির বাধায় বেশি কাছাকাছি যেতে পারিনি। একটু দূর থেকেই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে হয়েছে। তার পরও আমি অনেক খুশি, তাদের সবাইকে একসঙ্গে দেখতে পারলাম। করোনার কারণে দুই বছর দেখা হয়নি।

বগুড়া থেকে আসা সুমনা পারভীন নামের দর্শনার্থী বলেন, ঈদের আনন্দটা উপভোগ করতেই হিলি সীমান্ত দেখতে এসেছি। এর আগে কখনোই এই সীমান্ত এলাকা দেখা হয়নি আজকেই আমার প্রথমবারের মতো আসা। এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে এত নিকটতম সীমান্ত এলাকা কোথাও দেখিনি।

বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মোকলেছুর রহমান বলেন, প্রতি বছরই ঈদ-পূজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সীমান্ত এলাকা দেখতে সাধারণ মানুষের ভিড় থাকে। এবারো ঈদের নামাজের পর থেকেই দর্শনার্থী আসতে শুরু করেছে। তবে সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সীমান্তের চেকপোস্ট গেটে অবস্থিত রেললাইনে দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের ছবি তুলছেন কেউবা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকে সীমান্তের কাছে যেতে চাইছেন কিন্তু অনুমতি না থাকায় সেই সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। তাদের নির্ধারিত এলাকায় দাঁড়িয়ে দেখার সুযোগ দেয়া হয়েছে।