চলতি বিশ্বকাপে গত সপ্তাহে দুই দিনের ব্যবধানে ঘটে যায় দুটি বড় অঘটন। ১৫ অক্টোবর দিল্লিতে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় আফগানিস্তান। দুদিন পর ধর্মশালায় নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা আগের পাঁচ ওয়ানডেতে ছিল জয়রথে। আজ এই দুই হারা দলের লড়াই। মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায় শুরু হবে ইংলিশ-প্রোটিয়া দ্বৈরথ।

দক্ষিণ আফ্রিকা টানা দুই ম্যাচে গুঁড়িয়ে দেয় শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়াকে। শ্রীলংকাকে ১০২ রানে ও অস্ট্রেলিয়াকে ১৩৪ রানে বিধ্বস্ত করে তেম্বা বাভুমার দল। আগুন ফর্মে থাকা এই দলকে মাটিতে নামায় ডাচরা। প্রোটিয়াদের জয়রথ থামে। পয়েন্ট টেবিলেও নিউজিল্যান্ড-ভারতের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে তারা। শুক্রবার পর্যন্ত ৩ ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের তিনে অবস্থান করছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ইংল্যান্ড ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে ছিল টেবিলের পাঁচ নম্বরে। 

এক হারেই অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে যায়নি। এখনো ছয় ম্যাচ বাকি তাদের। তবে সেমির পথটা মসৃণ রাখতে নিশ্চিতভাবেই জয়ে ফিরতে চাইবেন বাভুমা-কুইন্টন ডি ককরা। 

দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে খারাপ অবস্থায় ইংল্যান্ড। তারা তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতেই হেরে ব্যাকফুটে চলে গেছে। উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটের পরাজয় দিয়ে শিরোপা রক্ষার মিশন শুরু হয় জস বাটলারের দলের। ধর্মশালায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৩৭ রানের জয় পেয়ে সেই দুঃখ ভুলেছেন বাটলার ও তার সহযোদ্ধারা।

যদিও এক ম্যাচ পরে আবার বিপর্যয়। দিল্লিতে ইংলিশদের ৬৯ রানে হারিয়ে চমক দেখায় আফগানরা। বিশ্বকাপে তো বটেই, যেকোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটে সেটাই ছিল আফগানিস্তানের কাছে তাদের প্রথম হার। আজ প্রোটিয়াদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়নদের ফেরার চ্যালেঞ্জ।

মুম্বাই বলেই আশায় ইংলিশরা। ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে এখানেই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ২৩০ রান তাড়া করে জিতেছিল ইয়োন মরগানের দল। সাত বছর আগের সেই স্মৃতি ফেরাতে চান জস বাটলার। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘একটি দল হিসেবে আমরা আজ যেখানে কিংবা আমরা যেদিকে যেতে চাই, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ২০১৬ সালের ম্যাচটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ। আমরা কীভাবে ক্রিকেটটা খেলব কিংবা আমরা আমাদের খেলার ধরন নিয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব কিনা, সেই ব্যাপারে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’

সেই থেকে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট আসলেই বদলে গেছে। এখন তাদের দর্শন ‘বাজবল’। পাওয়ার প্লেতে আধিপত্য করা এবং কোনোভাবেই পেছন ফিরে না তাকানোর নীতি। এ স্টাইলে খেলে গত কয়েক বছরে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০তে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হয়ে উঠেছে তারা। যদিও এবার শিরোপা রক্ষার মিশনে ধুঁকছে বাটলারের দল। তারা এখন স্বরূপে ফিরতে মরিয়া। 

ভয়ংকর ব্যাটিং লাইনআপ প্রোটিয়াদের। তাদের একাদশে রয়েছেন কুইন্টন ডি কক, তেম্বা বাভুমা, রাসি ফন ডার ডুসেন, এইডেন মার্করাম, হাইনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। যদিও ডাচদের কাছে তাদের হারের পর ইংলিশরাও আশাবাদী হয়ে উঠতে পারেন। তবু বাটলার লড়াই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উভয় দলের আক্রমণেই গতি বোলার রয়েছে এবং দুই দলই গতি ভালোবাসে। কাজেই আমি রোমাঞ্চকর একটি লড়াই দেখতে পাচ্ছি।’

ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাতবারের মুখোমুখিতে ইংল্যান্ড চারবার ও দক্ষিণ আফ্রিকা তিনবার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। 

এদিকে আজ সকালেই মাঠে নেমে পড়ছে নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলংকা। লক্ষ্ণৌতে টেবিলের আট ও ১০ নম্বর দলের লড়াই। শ্রীলংকা টানা তিন ম্যাচে হেরে টেবিলের দশ নম্বরে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ডাচরা এ মুহূর্তে ভীষণ উজ্জীবিত। তাদের কাছে আজ হারলে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকার। সেমিফাইনালের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখতে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই সিংহলিজদের জন্য।

তিন মাস আগে হারারেতে বিশ্বকাপ বাছাই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ডাচদের ১২৮ রানে হারিয়ে দেয় শ্রীলংকা। ওই জয়টিই আজ অনুপ্রেরণা জোগাবে কুশল মেন্ডিসের দলকে।

এছাড়া পাঁচবারের মুখোমুখিতে কখনো হারেনি সিংহলিজরা। তাদের ২০৬ ও ১৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর কৃতিত্ব আছে শ্রীলংকার। তবে আজকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। টানা হারে সিংহলিজরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে সদ্য হারিয়ে ডাচরা উজ্জীবিত।