ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট গণনা ও ফলাফল একত্রীকরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে রিটার্নিং অফিসার ভোট গণনার সময় বাতিল ঘোষিত ব্যালট পেপার পুনরায় পরীক্ষা করতে পারবেন। সেইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রেই গণনা সম্পন্ন, প্রার্থী ও এজেন্টদের উপস্থিতিতে ফলাফল একত্রীকরণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ফল কমিশনে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের জারি করা এ সংক্রান্ত পরিপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর থেকে নির্বাচনী ফলাফল একত্রীকরণ এবং ঘোষণা পর্যন্ত ইসির সুস্পষ্ট কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। 

ভোটকেন্দ্রেই গণনা বাধ্যতামূলক: ইসি নির্দেশ দিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থী, এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীর সামনে ভোট গণনা শেষ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্রের বাইরে গণনা করা যাবে না। গণনার বিবরণী কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড বা দেয়ালে টানিয়ে প্রকাশ করতে হবে।

ব্যালট ও কাগজপত্র সরাসরি রিটার্নিং অফিসারের কাছে: ভোট গণনা শেষে ব্যবহৃত ব্যালট প্যাকেট, গণনার বিবরণী, ব্যালট হিসাব এবং অন্যান্য নির্বাচনী কাগজপত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে সরাসরি রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে।

প্রার্থী ও এজেন্টদের স্বার্থ নিশ্চিত: অনুপস্থিত প্রার্থী বা এজেন্ট থাকলে তা লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হবে। চাইলে প্রার্থী ও এজেন্টকে ভোট গণনার বিবরণীর প্রত্যয়িত কপি দিতে হবে। স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে প্রিজাইডিং অফিসার বিষয়টি লিপিবদ্ধ করবেন।

ফলাফল একত্রীকরণ এবং ঘোষণা: রিটার্নিং অফিসার নির্ধারিত সময় ও স্থানে প্রার্থী ও এজেন্টদের উপস্থিতিতে ফলাফল একত্রীকরণ করবেন। সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল (ফরম-১৬) এবং পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল (ফরম-১৬ক) একত্র করে চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত হবে। প্রয়োজনে রিটার্নিং অফিসার বাতিল ব্যালট পুনঃপরীক্ষার ক্ষমতা রাখবেন।

সমভোট হলে ব্যবস্থা: যদি একাধিক প্রার্থীর ভোট সমান হয়, রিটার্নিং অফিসার কমিশনে লিখিত প্রতিবেদন দেবেন। কমিশনের নির্দেশনায় পুনঃভোট নেয়া হবে।

প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল এবং সংগ্রহ কেন্দ্র: ভোটগ্রহণের দিন প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ‘নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্র থেকে ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ পরিস্থিতি ও ফলাফল কমিশনে জানানো হবে।

আরএমএসের মাধ্যমে ফলাফল প্রেরণ বাধ্যতামূলক: প্রিজাইডিং অফিসারদের পাঠানো ফলাফল আরএমএসে এন্ট্রি করে বার্তাশিটের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার ও কমিশন সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। প্রতিটি বার্তাশিটে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা, প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট, ভোটের শতকরা হার এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা উল্লেখ থাকবে।

চূড়ান্ত ফলাফল কমিশনে পাঠানো: নির্বাচনের রিটার্ন এবং একীভূত ফলাফলের বিবরণী ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছতে হবে। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম এবং প্রতিটি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা প্রকাশ করতে হবে।

নির্বাচনী কাগজপত্র সংরক্ষণ: নির্বাচন শেষে সব নির্বাচনী কাগজপত্র সরকারি কোষাগারে ডাবল লকে সংরক্ষণ করতে হবে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।