চলতি বছরের ১৬ মার্চ বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর বগুড়ার বঙ্গবন্ধুর সেই শস্যচিত্রের ধান কাটা হবে কাল। আয়োজক কমিটি সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা শুরু করবে। ধান কাটার পর সেগুলো মজুদ করে রাখার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ধানগুলো কী করা হবে। পুরো ধানের মাঠ বাতাসে দুলছে। ওপর থেকে দেখলে মনে হবে বঙ্গবন্ধুর চিত্রটিও দুলছে।
জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রামে ধানের ক্ষেতে বিশেষ ধরনের দুই রঙের ধানবীজ চাষের মধ্য দিয়ে তৈরি করা হয় ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতি। ধানক্ষেতে প্রতিকৃতিটি সঠিকভাবে ফুটে ওঠে। শস্যচিত্রটি গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ে। রেকর্ড গড়ার পর এবার সেই শস্য কাটা হবে। ক্ষেতের ১০০ বিঘা জমির ধান কাটা হবে কাল সোমবার। বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর এবার ধান কাটার সময় হয়ে পড়েছে। ভালো মানের ধান দেখা যাচ্ছে জমিতে। পুরো মাঠে ধানের শীষ দুলছে। রোদ পড়ে চকচক করছে ধানের শীষগুলো। এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ও উচ্চফলনশীল দুই ধরনের ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর আয়তন ছিল ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট। শস্যচিত্রের দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৩০০ মিটার। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মতো গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বুকে স্থান পেয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের জন্য। এ কাজের জন্য এরই মধ্যে ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা হবে। যদিও বেশ কয়েক দিন আগেই ধান কাটার উপযোগী হয়েছে। ধান কাটার পর সেগুলো ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের কাহালুর প্রসেসিং সেন্টারে নেয়া হবে। সে ধানগুলো পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কী করা হবে। তিনি আরো জানান, প্রথমে বিএনসিসি ও অন্যান্য কৃষিবিদের নিপুণ কারুকাজে তৈরি শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর বিশাল ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর অবয়ব ফুটে ওঠে। ধানের গাছ ছোট অবস্থায় উঁচু থেকে ড্রোন দিয়ে ছবি তোলার পর বঙ্গবন্ধুর অবয়ব ফুটে উঠতে দেখা যায়। ধানের চারা যতই বড় হয়েছে, ততই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটে উঠেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ মার্চ বিশ্বের সবচেয়ে বড় শস্যচিত্র হিসেবে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পরিষদের উদ্যোগে এবং বেসরকারি কোম্পানি ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের সহযোগিতায় ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’
নামে বিশাল আয়তনের এ প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ চিত্রকর্ম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘শস্যচিত্র’
হিসেবে গত ১৬ মার্চ গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে ধানের চারা থেকে ধান বেরিয়ে আসায় বর্তমানে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর অবয়ব কিছুটা পাল্টে গেছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি গ্রিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে স্থান পাওয়ার পর এ শস্যচিত্র নিয়ে দেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।










